নয়াদিল্লি, ১৩ জুন (আইএএনএস): ভারতের বহিঃখাত আগের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী ও স্থিতিশীল হয়েছে এবং দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক ভিত্তি এখন বৈশ্বিক ধাক্কা মোকাবিলার জন্য আরও ভালো অবস্থানে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা (সিইএ) ভি. অনন্ত নাগেশ্বরন।
এনডিটিভি ইগনাইট সামিটে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নাগেশ্বরন বলেন, দেশের বহিঃখাতকে ঘিরে ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তাঁর মতে, ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ককে (আরবিআই) রুপির মূল্য স্থিতিশীল রাখতে বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার থেকে বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করার চাপে পড়তে হবে না।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক অস্থিরতার সময় বিচক্ষণ সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা এবং সময়োপযোগী নীতিগত পদক্ষেপের ফলে ভারতের বহিঃখাতের পরিস্থিতি অনেকটাই উন্নত হয়েছে। “সবচেয়ে কঠিন সময় এখন আমাদের পেছনে,” মন্তব্য করেন তিনি।
আরবিআইয়ের ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ৬.৬ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাসকে সমর্থন করে নাগেশ্বরন বলেন, আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তা থাকা সত্ত্বেও ভারতের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তবে ‘বিকশিত ভারত’ লক্ষ্য পূরণ করতে হলে দীর্ঘমেয়াদে প্রায় ৮ শতাংশ হারে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নাগেশ্বরনের মতে, পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘস্থায়ী ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বা অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের উপরে দীর্ঘ সময় ধরে থাকলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ৬ শতাংশে নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে।
কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দ্রুত সম্প্রসারিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতকে কেন্দ্র করে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা জরুরি। কর্মীদের এমন দক্ষতা অর্জন করতে হবে, যা এআই-এর পরিপূরক এবং স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির কারণে সহজে প্রতিস্থাপিত হওয়ার ঝুঁকি কম।
কর্পোরেট ক্ষেত্রে ইতিবাচক মনোভাবের কথাও তুলে ধরেন সিইএ। তাঁর মতে, তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলি বিনিয়োগ বাড়িয়েছে, যা বেসরকারি মূলধনী ব্যয় (ক্যাপেক্স) চক্রে পুনরুজ্জীবনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
একই সঙ্গে গ্রামীণ অর্থনীতি আগামী দিনে প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হয়ে থাকবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। আসন্ন খরিফ মরশুম নিয়ে আশাবাদী নাগেশ্বরন জানান, জলাধারগুলিতে বেশি জল সঞ্চিত হওয়া এবং বপনের অনুকূল পরিস্থিতি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে, যদিও সম্ভাব্য এল নিনোর প্রভাব নিয়ে কিছু উদ্বেগ রয়েছে।
এদিকে, এআই-ভিত্তিক ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়ে অমিতাভ কান্ত বলেন, ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একটি সাধারণ প্রযুক্তিতে পরিণত হবে। তাই এই ক্ষেত্রে বিশ্বনেতা হতে হলে ভারতকে শক্তিশালী প্রতিভাভাণ্ডার, সমৃদ্ধ ডেটা অবকাঠামো, প্রগতিশীল নীতিমালা এবং আরও বিস্তৃত ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার গড়ে তুলতে হবে।
কান্তের মতে, এআই এমন একটি রূপান্তরমূলক শক্তি, যা বিদ্যুৎ বা কম্পিউটারের আবিষ্কারের সময়কার পরিবর্তনের থেকেও বড় মাত্রায় উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ঘটাতে পারে।
তিনি বলেন, “এটি হবে সব বিপ্লবের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিপ্লব।” তাঁর মতে, বিশ্ব যখন একদিকে ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত ও সরবরাহ শৃঙ্খলজনিত সমস্যার মোকাবিলা করছে, তখন অন্যদিকে এআই-চালিত অভূতপূর্ব উৎপাদনশীলতার যুগে প্রবেশ করছে।



















