নয়াদিল্লি, ৯ জুন (আইএএনএস): প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকারের ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সরকারের সাফল্য, জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি, পরিকাঠামো উন্নয়ন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের নানা দিক তুলে ধরেছেন। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ পোস্ট করে তাঁরা দাবি করেন, গত ১২ বছরে দেশ উন্নয়ন, জনকল্যাণ ও নাগরিক-কেন্দ্রিক সুশাসনের এক নতুন যুগে প্রবেশ করেছে।
কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গয়াল বলেন, এই সময়ে ভারত সেবা, সুশাসন ও জনকল্যাণের ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
তিনি লেখেন, “গরিব কল্যাণ থেকে নারী ক্ষমতায়ন, কৃষক কল্যাণ থেকে যুবসমাজের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি, আধুনিক পরিকাঠামো থেকে জাতীয় নিরাপত্তা— গত ১২ বছরের সেবার মাধ্যমে প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিবর্তন, অগ্রগতি ও আত্মবিশ্বাসের এক নতুন অধ্যায় রচিত হয়েছে।”
গয়াল সরকারের বিভিন্ন সাফল্যের পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, প্রতি মাসে ৮১ কোটিরও বেশি মানুষ বিনামূল্যে খাদ্যশস্য পাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় ৪ কোটির বেশি বাড়ি অনুমোদিত হয়েছে।
এছাড়া নারীদের জন্য ৩২ কোটিরও বেশি জনধন অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে এবং ৯১ লক্ষেরও বেশি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে গ্রামীণ মহিলাদের আর্থিকভাবে সক্ষম করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির দাবি করে তিনি বলেন, দেশের ২৬টি শহরে মেট্রো রেলের নেটওয়ার্ক ১,১০০ কিলোমিটারের বেশি বিস্তৃত হয়েছে। বর্তমানে ১৬৪টি বন্দে ভারত ট্রেন চলাচল করছে এবং বিমানবন্দরের সংখ্যা ৭৪ থেকে বেড়ে ১৬৪ হয়েছে। পাশাপাশি দেশে ২.২ লক্ষেরও বেশি স্টার্টআপ গড়ে উঠেছে।
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় অর্থ ও কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রী নির্মলা সীতারামন বলেন, গত ১২ বছরে মোদি সরকারের মূল মন্ত্র ছিল ‘জন সেবা সে জন শক্তি’।
তাঁর কথায়, “প্রতিটি উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল অন্তর্ভুক্তি, উদ্ভাবন এবং সুযোগের মাধ্যমে নাগরিকদের ক্ষমতায়ন।”
সীতারামন জানান, প্রধানমন্ত্রী জনধন যোজনার আওতায় ৫৮ কোটিরও বেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে এবং মোট আমানতের পরিমাণ প্রায় ৩ লক্ষ কোটি টাকা ছুঁয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী স্বনিধি প্রকল্পের মাধ্যমে শহরের পথবিক্রেতাদের সহায়তায় ১.১৫ কোটিরও বেশি ক্ষুদ্র ঋণ দেওয়া হয়েছে, যার মোট মূল্য ১৮,৬০০ কোটিরও বেশি টাকা।
উত্তর-পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য এম. সিন্ধিয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে গত ১২ বছরে জনকল্যাণকে প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে ভারত উন্নয়নের নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে।
তাঁর মতে, সেবা, সুশাসন ও দরিদ্র কল্যাণের প্রতি সরকারের অঙ্গীকার লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে।
সিন্ধিয়া আরও বলেন, পরিকাঠামো, ডিজিটাল বিপ্লব, নারী ক্ষমতায়ন, কৃষক কল্যাণ এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের উপস্থিতি— সব ক্ষেত্রেই দেশ নতুন আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়েছে। তিনি দাবি করেন, ১৪০ কোটি ভারতীয়ের আস্থাই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি এবং ‘বিকশিত ভারত’-এর স্বপ্নপূরণের চালিকাশক্তি।
কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীও প্রধানমন্ত্রী মোদিকে প্রশংসায় ভরিয়ে দেন। তিনি বলেন, মোদি ক্ষমতাকে কখনও বিশেষ সুবিধা হিসেবে নয়, বরং জনসেবার মাধ্যম হিসেবে দেখেছেন।
পুরী বলেন, “প্রতিটি মুহূর্ত দেশের জন্য, প্রতিটি প্রচেষ্টা দেশের জন্য এবং প্রতিটি সংকল্প ভারতের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য।”
তিনি আরও দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রীর শৃঙ্খলা, দায়বদ্ধতা এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্যকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার ক্ষমতা আত্মবিশ্বাসী ভারতের ভিত্তি গড়ে তুলেছে। তাঁর মতে, দেশের কোটি কোটি মানুষ মোদিকে শুধু প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই নয়, বরং বিকশিত ভারতের স্বপ্ন বাস্তবায়নের অন্যতম পথপ্রদর্শক হিসেবেও দেখেন।
— আইএএনএস



















