সোনামুড়া, ৮ জুন : দীর্ঘদিন ধরে গ্রামীণ রাস্তা সংস্কার না হওয়ার প্রতিবাদে সোমবার সকালে সোনামুড়া মহকুমার কাঠালিয়া ব্লকের দক্ষিণ মহেশপুর এলাকায় বাইপাস সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে সামিল হন স্থানীয় বাসিন্দারা। এর ফলে সোনামুড়া-বিলোনিয়া সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং দূরপাল্লার বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হন।
জানা গেছে, দক্ষিণ মহেশপুরের কাকরি নদীর সেতুর উত্তরাংশ সংলগ্ন চৌমুহনী এলাকায় সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ অবরোধ শুরু হয়। খবর লেখা পর্যন্ত অবরোধ চলছিল। ঘটনাস্থলে যাত্রাপুর থানার পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং অবরোধকারীদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
অবরোধকারীদের দাবি, দক্ষিণ মহেশপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় ৩০০ মিটার দীর্ঘ একটি গ্রামীণ রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি পরিবারের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা এই রাস্তা। একসময় ছোট ও মাঝারি যানবাহন চলাচল করলেও বর্তমানে রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ যে সাইকেল নিয়েও চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তার বিভিন্ন অংশ জল ও কাদায় ভরে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছে রাস্তা সংস্কারের দাবি জানানো হলেও বাস্তবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। নির্বাচন এলেই উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, কিন্তু নির্বাচন শেষ হলে সেই প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবায়িত হয় না।
স্থানীয় বাসিন্দা তথা শাসক দলের নেত্রী স্নেহা বেগম জানান, পঞ্চায়েত প্রধান থেকে শুরু করে পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যদের বারবার বিষয়টি জানানো হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই শুধুমাত্র আশ্বাস মিলেছে, কাজের কোনো অগ্রগতি হয়নি। ফলে বাধ্য হয়েই সাধারণ মানুষ রাস্তা অবরোধের পথে নেমেছেন।
তিনি আরও বলেন, এলাকায় কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে অ্যাম্বুল্যান্স বা অটো নিয়ে যাতায়াত করাও অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠে। মাত্র ৩০০ মিটার রাস্তা সংস্কার করতে দীর্ঘদিন ধরে গড়িমসি করায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
এদিকে, যাত্রাপুর থানার ওসি জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে এবং পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। তবে অবরোধকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কাঠালিয়া ব্লকের বিডিও বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক আধিকারিক ঘটনাস্থলে এসে আশ্বাস না দেওয়া পর্যন্ত তারা অবরোধ প্রত্যাহার করবেন না।
স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু করে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে তাদের মুক্তি দিতে হবে।























