নয়াদিল্লি, ৮ জুন (আইএএনএস): গত ১২ বছরে ভারতের নানা ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন ঘটেছে এবং সেই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের কল্যাণ— সোমবার এমনই মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের সমস্ত উদ্যোগ অন্ত্যোদয়ের আদর্শে অনুপ্রাণিত এবং দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত মানুষদের কাছে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দেওয়াই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ ‘#‘গরিব কল্যাণের ১২ বছর’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প এবং সেগুলির প্রভাব তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “গত ১২ বছরে ভারত বহু পরিবর্তনের সাক্ষী হয়েছে এবং এই পরিবর্তনের মূল ভিত্তি ছিল দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া মানুষের কল্যাণ। আমরা সবসময় অন্ত্যোদয়ের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েছি এবং আমাদের লক্ষ্য ছিল উন্নয়নের সুফল সেইসব মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া, যারা দশকের পর দশক বঞ্চিত ছিলেন।”
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী জনধন যোজনা, ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (ডিবিটি), স্বচ্ছ ভারত অভিযান, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, জল জীবন মিশন এবং আয়ুষ্মান ভারত-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প মানুষের মর্যাদা, সুযোগ এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের উদ্দেশ্যে চালু করা হয়েছে।
মোদি বলেন, “জনধন অ্যাকাউন্ট ও ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার থেকে শুরু করে স্বচ্ছ ভারত, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, জল জীবন মিশন, আয়ুষ্মান ভারত— প্রতিটি উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল মানুষের জীবনে মর্যাদা ও সুযোগ নিশ্চিত করা।”
প্রধানমন্ত্রী কল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রযুক্তির ভূমিকারও প্রশংসা করেন। তাঁর বক্তব্য, “ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরকারি সহায়তা সরাসরি ও স্বচ্ছভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। এর ফলে অপচয় ও দুর্নীতি কমেছে, প্রশাসনিক দক্ষতা বেড়েছে এবং সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় হয়েছে। এভাবেই গরিব কল্যাণের যাত্রা মানবশক্তির বিকাশ এবং ‘বিকশিত ভারত’-এর স্বপ্নপূরণের এক সম্মিলিত আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।”
এদিকে, প্রধানমন্ত্রী মোদি ভারতীয় রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকের দোরগোড়ায় পৌঁছেছেন। আগামী ১০ জুন তিনি টানা ৪,৩৯৯ দিন দেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন সম্পূর্ণ করবেন, যা ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর রেকর্ডকে অতিক্রম করবে।
২০১৪ সালের ২৬ মে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া মোদি পরপর তিনটি লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় ফিরেছেন। তাঁর নেতৃত্বে ২০১৪ সালে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে, ২০১৯ সালে আরও বড় জয় পায় এবং ২০২৪ সালেও কেন্দ্রের ক্ষমতা ধরে রাখে।
অন্যদিকে, জওহরলাল নেহরু ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতার পর প্রধানমন্ত্রী হলেও প্রথম সাধারণ নির্বাচনের পরে তাঁর নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মেয়াদ শুরু হয় ১৯৫২ সালের ১৩ মে। ১৯৬৪ সালের ২৭ মে তাঁর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সেই মেয়াদ ছিল মোট ৪,৩৯৮ দিনের।
ফলে, ১০ জুন ৪,৩৯৯ দিন পূর্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নরেন্দ্র মোদি স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে টানা দায়িত্ব পালনকারী নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নতুন নজির গড়বেন।



















