হায়দরাবাদ, ৬ জুন (আইএএনএস): অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করা এবং সমাজবিরোধী কার্যকলাপ রুখতে বৃহৎ পরিসরে ‘অপারেশন কবচ’ অভিযান চালাল হায়দরাবাদ সিটি পুলিশ। শুক্রবার গভীর রাতে শহরের ৫৬২টি হোটেল ও লজে একযোগে তল্লাশি চালানো হয়। এই অভিযানে প্রায় ৫,০০০ পুলিশকর্মী অংশ নেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, রাত ১১টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত এই বিশেষ অভিযান চলে। হায়দরাবাদ পুলিশ কমিশনার ভি. সি. সাজ্জানারের সরাসরি তত্ত্বাবধানে অভিযান পরিচালিত হয়।
কমিশনার নিজেও নামপল্লি রেলস্টেশন ও আমিরপেট সংলগ্ন ব্যস্ত এলাকার একাধিক লজ পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি কক্ষ বরাদ্দের পদ্ধতি, অতিথি নিবন্ধন সংক্রান্ত নথি এবং পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখেন।
পাশাপাশি কয়েকজন অতিথির সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাঁদের ব্যক্তিগত তথ্য যাচাই করেন এবং শহরে আসার কারণ সম্পর্কেও জানতে চান।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হায়দরাবাদ কমিশনারেটের সাতটি জোন জুড়ে এই অভিযান চালানো হয়। সবচেয়ে বেশি ১১৯টি হোটেল ও লজে তল্লাশি চালানো হয়েছে খৈরতাবাদ জোনে। এরপর শামশাবাদে ৯২টি, জুবিলি হিলস ও গোলকোন্ডায় ৮৬টি করে, সেকেন্দ্রাবাদে ৮২টি, রাজেন্দ্রনগরে ৫৩টি এবং চারমিনার জোনে ৪৪টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান হয়।
তল্লাশির সময় পুলিশ হোটেলের রেজিস্টার, অতিথিদের তথ্য এবং বিভিন্ন কক্ষ খুঁটিয়ে পরীক্ষা করে। নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ মানা হচ্ছে কি না, সেদিকেই বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
কমিশনার সাজ্জানার হোটেল ও লজ মালিকদের নির্দেশ দেন, অতিথিদের মূল পরিচয়পত্র যাচাই বাধ্যতামূলক করতে হবে এবং তাঁদের যোগাযোগের তথ্য, চেক-ইন ও চেক-আউটের সময়সহ সমস্ত তথ্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, অসম্পূর্ণ বা ভুয়া তথ্যের ভিত্তিতে কোনও ঘর ভাড়া দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি বয়স যাচাই ছাড়া অপ্রাপ্তবয়স্কদের থাকার অনুমতি না দেওয়ারও নির্দেশ দেন।
কমিশনার জানান, শীঘ্রই একটি ডিজিটাল ভিজিটর ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া সমস্ত হোটেল ও লজে প্রবেশপথ, প্রস্থানপথ এবং রিসেপশন এলাকা জুড়ে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সাধারণ নাগরিক এবং হোটেল কর্মীদেরও সন্দেহজনক কোনও কার্যকলাপ নজরে এলে দ্রুত ‘ডায়াল ১০০’ বা নিকটবর্তী থানায় জানানোর আহ্বান জানিয়েছে।
নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনকারী হোটেল ও লজগুলির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কমিশনার সাজ্জানার।
এই অভিযানে একাধিক জ্যেষ্ঠ আইপিএস অফিসার, ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ (ডিসিপি), অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার অব পুলিশ (এসিপি) এবং বিশেষ পুলিশ ইউনিটের সদস্যরা অংশ নেন।



















