নতুন দিল্লি, ৫ মে (আইএএনএস): রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু-র সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সংবিধানিক অধিকার রক্ষার বিষয়ে আশ্বাস পাওয়ায় শক্তি পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন রাজ্যসভার সাংসদ রাঘব চধা।
মঙ্গলবার তিনজন সহ-সাংসদকে নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করেন রাঘব চধা। বৈঠকের পর তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর পাঞ্জাবের আম আদমি পার্টি (আপ) সরকার তাঁদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক যন্ত্রের অপব্যবহার করছে।
তিনি বলেন, “আমরা রাষ্ট্রপতিকে জানিয়েছি যে, আমাদের দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করে আপ ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। কিন্তু এরপর থেকেই আমাদের লক্ষ্য করে হয়রানি করা হচ্ছে।”
রাষ্ট্রপতির প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সংবিধানিক অধিকার ও গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তকে সম্মান করা উচিত—এই বিষয়ে রাষ্ট্রপতির আশ্বাস আমাদের সাহস জুগিয়েছে।”
আপ-এর বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে রাঘব চধা বলেন, দল ছাড়ার পর থেকেই তাদের আচরণ প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে উঠেছে।
তিনি অভিযোগ করেন, ২৪ এপ্রিল ২০২৬-এ বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে একাধিক সাংসদের উপর চাপ সৃষ্টি ও ভয় দেখানোর ঘটনা ঘটেছে।
উদাহরণ হিসেবে তিনি প্রাক্তন ক্রিকেটার ও সাংসদ হরভজন সিং-এর প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর দাবি, জলন্ধরে হরভজন সিংহের বাড়ির বাইরে স্লোগান দেওয়া, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য, এমনকি পাথর ছোড়ার ঘটনাও ঘটেছে।
এছাড়া শিল্পপতি ও পদ্মশ্রী প্রাপক রাজিন্দর গুপ্তা-কেও টার্গেট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। চাড্ডার দাবি, মালওয়া অঞ্চলে গুপ্তার কারখানায় প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে, জলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের মাধ্যমে তদন্ত চালানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “যতদিন আমরা দলের অনুগত ছিলাম, ততদিন আমাদের ভদ্র বলা হত। দল ছাড়তেই আমাদের দুর্নীতিগ্রস্ত বলা হচ্ছে।”
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বিপজ্জনক দিক নিয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, “আপ একটি রাজ্যে ক্ষমতায় রয়েছে, আর বিজেপি ২১টি রাজ্যে। প্রতিশোধের এই রাজনীতি কোথায় গিয়ে থামবে, তা কেউ জানে না। এই পথ থেকে সরে আসা উচিত।”


















