আগরতলা, ৩০ এপ্রিল: টানা দুই মাস বেতন না পেয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়ে রাস্তায় নামতে বাধ্য হলেন এসপিকিউইএম প্রকল্পের অধীন মাদ্রাসা শিক্ষকরা। বৃহস্পতিবার সোনামুড়ায় বিদ্যালয় পরিদর্শকের কাছে পাঁচ দফা দাবি নিয়ে ডেপুটেশন প্রদান করেন তাঁরা।
শিক্ষকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসলেও তার কোনো সুরাহা হয়নি। উল্টে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে সম্পূর্ণভাবে বেতন বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে রাজ্যের প্রায় ৩৩৬ জন শিক্ষক ও তাঁদের পরিবার চরম দুরবস্থার মধ্যে পড়েছেন।
জানা গেছে, ১৯৯৬-৯৭ সাল থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে বর্তমানে এসপিকিউইএম প্রকল্পের অধীনে রাজ্যের বিভিন্ন মাদ্রাসায় এই শিক্ষকরা কর্মরত। কিন্তু গত দুই মাস ধরে বেতন না পাওয়ায় ঘরভাড়া, রেশন, সন্তানের পড়াশোনা থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটানোই দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এসপিকিউইএম শিক্ষক সমন্বয় কমিটির এক সদস্য জানান, “কেন্দ্র ও রাজ্য ৬০:৪০ অনুপাতে অর্থ প্রদান করে। কেন্দ্রের বরাদ্দ না আসায় রাজ্য সরকার বেতন আটকে রেখেছে বলে জানানো হয়েছে। কিন্তু বারবার দপ্তরে যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান মেলেনি। আমরা বেতন বৃদ্ধির দাবি তুলেছিলাম, এখন বেতনটাই বন্ধ।”
ঈদ ও নববর্ষের আগে বেতন না পাওয়ায় শিক্ষক মহলে ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। ডেপুটেশনের মাধ্যমে অবিলম্বে বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাসের দাবি জানানো হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন শিক্ষকরা।
রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়েও দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চনার শিকার এই শিক্ষকদের পাশে সরকার কবে দাঁড়াবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।



















