আগরতলা, ৩০ এপ্রিল: স্বামীর বিরুদ্ধে পণের দাবিতে দীর্ঘদিনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে থানায় লিখিত মামলা দায়ের করলেন এক গৃহবধূ। ঘটনাটি আমতলী ও বোধজংনগর থানার অন্তর্গত দুই এলাকার সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।
অভিযোগ, প্রায় পাঁচ বছর আগে আমতলী থানার অন্তর্গত নেতাজী সুভাষ কলোনি এলাকার বাসিন্দা রূপচান বেগমের সঙ্গে সামাজিকভাবে বিয়ে হয় বোধজংনগর থানার অন্তর্গত রতন নগর এলাকার কুদ্দুস মিয়ার ছেলে কবির হোসেনের। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই রূপচান বেগমের উপর পণের টাকা আনার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ। কিন্তু আর্থিকভাবে দুর্বল হওয়ায় বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনতে না পারায় তার উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু হয়।
বিয়ের এক বছর পর দম্পতির সংসারে এক কন্যা সন্তানের জন্ম হলেও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। বরং অভিযোগ, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নির্যাতনের মাত্রা বাড়তে থাকে। একাধিকবার দুই পক্ষের মধ্যে মীমাংসার চেষ্টা হলেও তাতে কোনো সুফল মেলেনি।
অবশেষে কয়েক মাস আগে নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে রূপচান বেগম তার কন্যা সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে ফিরে যান। অভিযোগ, এরপরও স্বামী কবির হোসেন স্ত্রী ও সন্তানের কোনো খোঁজখবর নেননি বা তাদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেননি।
এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার বিকেলে নির্যাতিতা গৃহবধূ বোধজংনগর থানায় স্বামীর বিরুদ্ধে পণের জন্য নির্যাতনের অভিযোগে লিখিত মামলা দায়ের করেন। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন, এর আগেও একই অভিযোগে থানায় লিখিত আবেদন জানানো হলেও তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক কোনো মামলা গ্রহণ করেননি।
নির্যাতিতা গৃহবধূর দাবি, পুরো ঘটনাটি সঠিকভাবে তদন্ত করে অভিযুক্ত স্বামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



















