নয়াদিল্লি, ৩০ এপ্রিল (আইএএনএস): আগামী বছর উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের আগে বড়সড় নাশকতার ছক কষছে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আন্তঃ-সেবা গোয়েন্দা সংস্থা (আইএসআই) — এমনটাই দাবি ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রের। তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নজরদারি, বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং তথ্য সংগ্রহ—সবই একসঙ্গে চালানো হচ্ছে।
এক আধিকারিকের কথায়, উত্তরপ্রদেশ নির্বাচন একটি বড় রাজনৈতিক ঘটনা, আর সেই প্রেক্ষিতে একাধিক হামলার পরিকল্পনা করছে আইএসআই-সমর্থিত চক্র। “প্যাটার্ন দেখলেই বোঝা যায়—সিসিটিভি বসানো, গুপ্তচরবৃত্তি—সবই সংবেদনশীল এলাকাগুলির তথ্য জোগাড়ের জন্য,” তিনি বলেন।
গোয়েন্দাদের মতে, হঠাৎ করে এই ধরনের কার্যকলাপ বেড়ে যাওয়ার উদ্দেশ্য হল ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলিকে ব্যস্ত রাখা, যাতে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা আড়ালে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়।
আরও এক আধিকারিক জানান, শুধুমাত্র বড় শহর নয়, উত্তরপ্রদেশের দ্বিতীয় সারির শহর ও গ্রামাঞ্চলও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। এর মাধ্যমে গোয়েন্দা সংস্থাগুলিকে বিভ্রান্ত করে ‘সারপ্রাইজ এলিমেন্ট’ তৈরি করাই মূল উদ্দেশ্য।
সম্প্রতি গাজিয়াবাদ পুলিশ একটি চক্র ভেঙে দেয়, যারা রেলস্টেশন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সোলার চালিত সিসিটিভি ক্যামেরা বসাচ্ছিল। এই ক্যামেরাগুলির লাইভ ফিড পাকিস্তানে থাকা হ্যান্ডলারদের কাছে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল বলে অভিযোগ। এর পরেই দেশজুড়ে সিসিটিভি অডিট শুরু হয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্রের আশঙ্কা, এই ধরনের ক্যামেরা আগেভাগেই বড় সংখ্যায় মজুত করা হয়েছে এবং নির্বাচনের আগে বিভিন্ন রাস্তার ধাবা ও দোকানে বসিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের যাতায়াতের উপর নজরদারি চালানো হতে পারে।
তবে আইএসআই সরাসরি উত্তরপ্রদেশে সক্রিয় নিজেদের নেটওয়ার্ক ব্যবহার না-ও করতে পারে বলে মনে করছেন আধিকারিকরা। বরং অন্য রাজ্যের লোকজনকে কাজে লাগানো হতে পারে, যাতে তাদের পরিচয় নিয়ে সন্দেহ কম হয়।
গোয়েন্দাদের মতে, বিভিন্ন রাজ্যে গুপ্তচর ও জঙ্গি চক্র ধরা পড়লেও, অন্যত্র কী হচ্ছে তা নিয়েও সমান নজর রাখা জরুরি। কারণ, এই ‘বিভ্রান্তির কৌশল’ আসলে বড় কোনও পরিকল্পনাকে আড়াল করার অংশ হতে পারে।
এছাড়া, ভারতের নতুন নিরাপত্তা নীতিতে পাকিস্তান থেকে আসা যে কোনও সন্ত্রাসবাদী হামলাকে ‘যুদ্ধের সমতুল্য’ হিসেবে দেখা হবে—এই অবস্থানের পর আইএসআই তাদের কৌশল বদলেছে বলেও মনে করা হচ্ছে।
এক আধিকারিকের কথায়, “আইএসআই বড় হামলা করতে চাইলেও চায় না তার সূত্র পাকিস্তানের দিকে পৌঁছাক।” বিশেষত আর্থিক পদক্ষেপ টাস্ক ফোর্স (এফএটিএফ)-এর নজরদারির মধ্যে থাকা পাকিস্তান কোনওভাবেই আবার ‘গ্রে লিস্ট’-এ ফিরতে চায় না।
অভিযোগ, মাদক ব্যবসা ও তথাকথিত দাতব্য সংস্থার অর্থ ব্যবহার করে সন্ত্রাসী সংগঠনগুলিকে সক্রিয় রাখা হচ্ছে। ফলে, এখন এমন কৌশল নেওয়া হচ্ছে যাতে হামলাগুলি ‘স্থানীয়ভাবে সংগঠিত’ বলে মনে হয়।



















