আগরতলা, ২৯ মার্চ: কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার ছিল একটা দুর্নীতির সরকার। সেই জায়গায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে এখন দেশ বিকাশের দিশায় এগিয়ে চলছে। প্রধানমন্ত্রীর উপর মানুষের আশা ভরসা ও আস্থা রয়েছে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে শিলচরে বিজেপি প্রার্থীর জয় সুনিশ্চিত হবে।
আসামের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে আজ শিলচরের সৎসঙ্গ আশ্রম রোডের কীর্তনিয়া মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী সভায় একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। এই বিজয় সংকল্প সমাবেশে ভারতীয় জনতা পার্টি মনোনীত প্রার্থী ডাঃ রাজদ্বীপ রায়ের সমর্থনে বক্তব্য রাখেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, আমি গ্যারান্টির সঙ্গে বলতে পারি যে আসন্ন নির্বাচনে বিপুল সংখ্যায় ভোট নিয়ে জয়যুক্ত হবেন বিজেপি প্রার্থী ডাঃ রাজদ্বীপ রায়। আমাদের ত্রিপুরা সম্পর্কে আপনারা সবাই অবগত রয়েছেন। কমিউনিস্টদের দীর্ঘ ৩৫ বছরের শাসনের বিরুদ্ধে আমরা লড়াই করেছি। দীর্ঘ সময় ধরে তারা ত্রিপুরায় দুঃশাসন কুশাসন চালিয়েছে। আর সেখান থেকে মুক্তি পাওয়ার ঘণ্টা বেজে যায় যখন ২০১৪ সালে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদি দায়িত্ব ভার গ্রহণ করেন। আর আজ সেই ঘণ্টার প্রতিধ্বনি বেজে গেছে এখানেও।
সমাবেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরায় এডিসি নির্বাচন এবং ধর্মনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। যা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবুও আপনাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আমি আজ এখানে এসেছি। আমার মনে হচ্ছে শিলচরে আসা মানেই আগরতলায় আসা। এখানকার বহু মানুষের ত্রিপুরার সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। এখানকার অনেক মানুষ ত্রিপুরায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে খুব সম্ভব ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে মানিক্য রাজ বংশের অংশ ছিল এটা। শিলচরের সাথে সুদীর্ঘকাল ধরেই ত্রিপুরার একটা আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে।
বক্তব্যে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা আরো বলেন, নির্বাচনী প্রচারে এখানে আসবেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও। আমি নিশ্চিত বিপুল পরিমাণ ভোটে ডাঃ রাজদ্বীপ রায়কে জয়ী করে বিধানসভায় পাঠাবেন আপনারা। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদি দায়িত্ব গ্রহণের আগে এই দেশের ভবিষ্যত নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছিল। আমাদের সৈনিকদের গলা কেটে দেশের মাটিতে ফেলে দেওয়া হতো। সংসদ ভবনে আঘাত হানা হয়েছিল। মুম্বাইয়ে নিরীহ মানুষদের উপর হত্যালীলা চালানো হয়েছিল। আমরা আগে কংগ্রেসের সরকার ইউপিএ সরকারের সময়ে দুর্নীতির সরকার দেখতাম। আসামেও আমরা দেখেছি দুর্নীতির সরকার। কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী আসার পর আমরা দেখেছি যে দুর্নীতি ছাড়াও কিভাবে স্বচ্ছতার সঙ্গে সরকার চালানো যায়। তিনবারের মতো দায়িত্ব নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আমাদের সেটা শিখিয়েছেন। আমরাও সেই দিশায় স্বচ্ছতার সঙ্গে সরকার চালাচ্ছি।
মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, আগে উত্তর পূর্বাঞ্চলের অবস্থা কি ছিল সেটা আপনারা সবাই জানেন। তখন গৌহাটিতে আসলে কখন যে বোমা ফাটবে তার কোন নিশ্চয়তা ছিল না। আর এখন উত্তর পূর্বাঞ্চলকে অষ্টলক্ষ্মী নাম দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলছেন উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির উন্নয়ন না হলে দেশেরও উন্নয়ন হবে না। আজ প্রধানমন্ত্রী উত্তর পূর্বাঞ্চলের বিকাশে অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি করেছেন। ২০১৮ সালে ত্রিপুরায় কমিউনিস্টদের দুঃশাসন থেকে আমাদের মুক্তি দিয়েছেন তিনি। আমাদের তিনি হিরা মডেল উপহার দিয়েছেন। আগে ত্রিপুরায় একটা মাত্র ন্যাশনাল হাইওয়ে ছিল। সেই জায়গায় এখন ৬টি ন্যাশলাল হাইওয়ে হয়েছে। ত্রিপুরায় দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগ দিয়েছেন। আগরতলায় একটা খুব সুন্দর এয়ারপোর্ট হয়েছে। কৈলাশহরে এয়ারপোর্ট করার জন্যও আমি বারবার দিল্লির সঙ্গে কথা বলছি। প্রধানমন্ত্রী থাকলে সবকিছুই সম্ভব। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ছাড়া এই দেশকে কেউ সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে না। মানুষের কাছে তিনি আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক হয়েছেন।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন শিলচরের সাংসদ পরিমল শুক্লবৈদ্য, বিজেপি প্রার্থী ডাঃ রাজদ্বীপ রায়, বিধায়ক দীপায়ন চক্রবর্তী, বিধায়ক নিহার কান্তি দাস, প্রাক্তন জেলা সভাপতি বিমলেন্দু রায় সহ ভারতীয় জনতা পার্টির অন্যান্য শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্ব।

