ঢাকা, ১৯ মার্চ: বাংলাদেশে মানবাধিকার সুরক্ষা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা বজায় রাখতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে জরুরি হস্তক্ষেপের আর্জি জানাল একাধিক আন্তর্জাতিক ও মানবাধিকার সংগঠন। আটক সাংবাদিকদের মুক্তি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা এবং সাইবার অপরাধ-সংক্রান্ত আইনে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলির পুনর্বিবেচনার দাবি তোলা হয়েছে।
এক যৌথ চিঠিতে কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)-সহ মোট ন’টি মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ সরকারের কাছে প্রকাশ্যে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মিডিয়ার স্বশাসনের প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশের ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট এবং সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট-এর অধীনে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলি পুনরায় খতিয়ে দেখা হোক। একইসঙ্গে আটক সাংবাদিকদের দ্রুত মুক্তির দাবিও জানানো হয়েছে।
স্বাক্ষরকারী সংগঠনগুলির অভিযোগ, প্রাক্তন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি হওয়া কিছু অধ্যাদেশে এমন কিছু ধারা রয়েছে, যা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের জন্য হুমকিস্বরূপ। তাই সেগুলিকে স্থায়ী আইনে পরিণত না করার আবেদনও জানানো হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সাংবাদিক, সংগীতশিল্পী, শিল্পী এবং লেখক-সহ বিভিন্ন পেশার মানুষ হিংসাত্মক গোষ্ঠী ও দুষ্কৃতীচক্রের হামকি এবং আক্রমণের মুখে পড়ছেন। অনেক ক্ষেত্রেই তাঁদের চুপ করিয়ে দিতে আইনকে হয়রানির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলির বক্তব্য, সরকারের দায়িত্ব শুধু মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষাকারী আইন নিশ্চিত করা নয়, বরং বাংলাদেশে প্রত্যেক নাগরিককে হিংসা ও আইনের অপব্যবহার থেকে সুরক্ষা দেওয়া।
চিঠিতে নির্বিচারে নজরদারি, সেন্সরশিপ এবং ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করার প্রবণতা বন্ধ করার আহ্বানও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে মিডিয়া রিফর্ম কমিশন-এর সুপারিশগুলি কার্যকর করার দাবি তোলা হয়েছে।
এ ছাড়া ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টার-সহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনাগুলির দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবিও জানানো হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে মানবাধিকার লঙ্ঘন রুখতে এবং অভিযোগের তদন্তে একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অত্যন্ত জরুরি।
স্বাক্ষরকারীদের দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও নির্বিচারে আটক করার প্রবণতা অব্যাহত ছিল এবং সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমের উপর গ্রেফতারি ও হামলার কারণে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এখনও ঝুঁকির মুখে।
সংগঠনগুলির মতে, সাম্প্রতিক সময়ে গণপিটুনি ও উন্মত্ত জনতার হিংসা আইনের শাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে, বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলি বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। একইসঙ্গে, এমন এক পরিবেশ তৈরি হয়েছে যেখানে ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলি নারী ও কন্যাশিশুদের স্বাধীনতা সীমিত করতে চাইছে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
চিঠিতে চট্টগ্রাম পার্বত্য জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে।
সবশেষে মানবাধিকার সংগঠনগুলি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, তিনি যেন তাঁর দায়িত্বকালকে ইতিবাচক পরিবর্তনের উত্তরাধিকার গড়ে তোলার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করেন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও জবাবদিহিকে সমর্থন জানান।

