আগরতলা, ১২ মার্চ : উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে প্রদেশ কংগ্রেস। মেঘালয়ের গাড়ো পাহাড় স্বশাসিত জেলা পরিষদ নির্বাচনের ঘটনাবলিকে কেন্দ্র করে যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা নিয়ে এক বিবৃতিতে মত প্রকাশ করেন প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, আগামী ১০ এপ্রিল গাড়ো হিলস অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (জিএইচএডিসি)-এর ৩০ আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে ২৭টি আসন গারো আদিবাসীদের জন্য সংরক্ষিত, দুটি অসংরক্ষিত এবং একটি রাজ্যপাল মনোনীত আসন। গত ১০ মার্চ দুটি অসংরক্ষিত আসনে অ-আদিবাসী প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দিতে গেলে কিছু আদিবাসী যুবক বাধা সৃষ্টি করে বলে অভিযোগ ওঠে। এর জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ, মিছিল ও অশান্তির ঘটনা ঘটে।
তিনি আরও দাবি করেন, পরিস্থিতি এতটাই অবনতির দিকে যায় যে তুরা শহরে একটি পুরনো মসজিদ ভাঙচুর, দোকানপাটে অগ্নিসংযোগ এবং বিভিন্ন স্থানে হামলার ঘটনা ঘটে। বহু বাঙালি পরিবার প্রাণ বাঁচাতে ঘরবাড়ি ছেড়ে পাশের রাজ্য আসামের দিকে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন কারফিউ জারি করলেও উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
প্রদেশ কংগ্রেসের মতে, এই ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং দেশজুড়ে তথাকথিত অনুপ্রবেশকারীদের ইস্যুতে যে ধরনের রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করা হচ্ছে, তারই প্রভাব উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও পড়ছে বলে তারা মনে করে।
একই সঙ্গে তিনি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্যে সাম্প্রতিক অশান্তির ঘটনাও উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, ত্রিপুরাতেও আসন্ন ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়া অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল নির্বাচন এবং ধর্মনগর বিধানসভা উপনির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে।
এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের শান্তিপ্রিয় মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস। একই সঙ্গে রাজ্য সরকারের কাছে দাবি জানানো হয়েছে, যাতে আসন্ন নির্বাচনগুলি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় এবং সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেই বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

