আগরতলা, ১২ মার্চ : একসঙ্গে সাত প্রজাতির আলুচাষ করে নজির গড়লেন দক্ষিণ ত্রিপুরার এক কৃষক। বাইখোড়া এলাকার কৃষক মৃণাল দেবনাথ-এর এই উদ্যোগকে ঘিরে এলাকাজুড়ে চর্চা শুরু হয়েছে।
দক্ষিণ ত্রিপুরার শান্তিরবাজার মহকুমার জোলাইবাড়ী বিধানসভা এলাকার অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল। জোলাইবাড়ী কৃষি দপ্তরের উদ্যোগ ও পরামর্শে এই এলাকার কৃষকেরা ধানচাষের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষেও এগিয়ে এসেছেন। কৃষকদের আয় বৃদ্ধি এবং আধুনিক কৃষি পদ্ধতি প্রসারে কৃষি দপ্তর নিয়মিতভাবে বিভিন্ন পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটেই জোলাইবাড়ী কৃষি দপ্তরের সহযোগিতায় পূর্ব চড়কবাই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার কৃষক মৃণাল দেবনাথ একসঙ্গে সাত ধরনের আলু চাষ করে সাফল্য অর্জন করেছেন। তিনি হিমালিনী, চিপসোনা-৩, নীলকণ্ঠ, পোখরাজ, করণ, সঙ্গম এবং উদয়—এই সাত প্রজাতির আলু চাষ করেছেন।
এই প্রজাতিগুলির মধ্যে নীলকণ্ঠ আলু বিশেষভাবে ব্যতিক্রমী। জানা যায়, কর্মসূত্রে বাইরে যাওয়ার সময় সেখান থেকে চারটি নীলকণ্ঠ আলু নিয়ে এসে তিনি পরীক্ষামূলকভাবে ১৬টি চারা রোপণ করেন। বর্তমানে সেই গাছগুলি থেকে প্রায় ১৪ কেজি আলু সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছেন। ভবিষ্যতে এই আলুগুলি সংরক্ষণ করে আরও বড় পরিসরে চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
কৃষক মৃণাল দেবনাথ জানান, জোলাইবাড়ী কৃষি দপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক শ্রীদাম দাস-এর পরামর্শ এবং কৃষি দপ্তরের নির্ধারিত নির্দেশিকা মেনে এআরসি চারা ব্যবহার করে তিনি এই চাষ করেছেন এবং এতে ভালো ফলন পেয়েছেন।
বৃহস্পতিবার জোলাইবাড়ী কৃষি দপ্তরের কর্মকর্তারা মৃণাল দেবনাথের আলুর জমি পরিদর্শন করেন এবং উৎপাদন প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখেন। পরে স্থানীয় কৃষকদের নিয়ে একটি আলোচনা সভাও অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে কৃষকদের উন্নয়নের লক্ষ্যে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প এবং কৃষকদের জন্য নেওয়া উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
আলোচনায় আরও জানানো হয়, কীভাবে কৃষকেরা উৎপাদিত আলু সংরক্ষণ করতে পারবেন এবং আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করে লাভ বাড়াতে পারবেন।
এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জোলাইবাড়ী পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান তাপস দত্ত, ভাইস চেয়ারম্যান কেশব চৌধুরী, বিএসসি চেয়ারম্যান অশোক মগ, জোলাইবাড়ী কৃষি দপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক শ্রীদাম দাসসহ অন্যান্যরা।
অনুষ্ঠান শেষে সংবাদমাধ্যমের সামনে কৃষি দপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক শ্রীদাম দাস কৃষক মৃণাল দেবনাথের এই সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। অপরদিকে কৃষক মৃণাল দেবনাথও নিজের অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানান।

