নয়াদিল্লি, ৬ মার্চ (আইএএনএস): মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইজরায়েল ও ইরানের সংঘাতের জেরে আকাশপথে নানা বিধিনিষেধ জারি থাকায় এখনও হাজার হাজার বিমান পরিষেবা বাতিল রয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই শুক্রবার থেকে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি গন্তব্যে সীমিত পরিসরে ধীরে ধীরে বিমান পরিষেবা পুনরায় চালু করতে শুরু করেছে ভারতের একাধিক বিমান সংস্থা।
বেসরকারি বিমান সংস্থা ইন্ডিগো জানিয়েছে, শুক্রবার তারা মধ্যপ্রাচ্যের আটটি গন্তব্যে মোট ১৭টি উড়ান পরিচালনা করবে, যা ৩৪টি যাত্রাপথে চলাচল করবে। সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিরাপদভাবে পরিষেবা পুনরায় চালু করতে তারা সরকারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছে।
এদিকে এয়ার ইন্ডিয়া এবং এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সৌদি আরব ও ওমানের আকাশপথ খুলে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার পর জেদ্দা ও মাসকাটের সঙ্গে বিমান পরিষেবা পুনরায় শুরু করা হয়েছে।
অন্যদিকে স্পাইসজেট জানিয়েছে, যাত্রীদের যাতায়াত সহজ করতে ৬ ও ৭ মার্চ সংযুক্ত আরব আমিরশাহি থেকে ভারতে বিশেষ উড়ান পরিচালনা করা হবে। এছাড়াও ৮ মার্চ অতিরিক্ত উড়ান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
ইন্ডিগো যাত্রীদের উদ্দেশ্যে জানিয়েছে, যাদের টিকিট বুক করা রয়েছে তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা হবে। সংস্থার পক্ষ থেকে বার্তা পাওয়ার পরই যাত্রীদের বিমানবন্দরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে ৬ মার্চ দুবাই, রাস আল খাইমা ও ফুজাইরাহ থেকে বিশেষ প্রত্যাবর্তন উড়ান পরিচালনা করা হবে।
তবে পশ্চিম এশিয়ার অন্যান্য গন্তব্যে নির্ধারিত উড়ান আপাতত ১০ মার্চ পর্যন্ত স্থগিত থাকবে বলে জানানো হয়েছে। ৪ মার্চ পর্যন্ত ইস্যু করা টিকিটের ক্ষেত্রে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চের মধ্যে যাত্রার জন্য যাত্রীরা অতিরিক্ত চার্জ বা ভাড়ার পার্থক্য ছাড়াই এক মাসের মধ্যে পুনরায় টিকিট বুক করতে পারবেন।
বিমান চলাচল সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী চলাচল আগের দিনের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে স্বাভাবিকের প্রায় ২৫ শতাংশে পৌঁছেছে।
তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ মার্চ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে আসা-যাওয়া মিলিয়ে মোট ৪৪ হাজারের বেশি উড়ান পরিচালনার কথা ছিল। এর মধ্যে ইতিমধ্যেই ২৫ হাজারেরও বেশি উড়ান বাতিল হয়েছে।
নাগরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন বিমান সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করা হচ্ছে। পাশাপাশি আটকে পড়া যাত্রীদের সহায়তার জন্য একটি যাত্রী সহায়তা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক জানিয়েছে, এই সময়ে বিমান ভাড়ায় অস্বাভাবিক বৃদ্ধি যাতে না ঘটে সেদিকেও নজরদারি করা হচ্ছে।

