ধর্মনগর, ১ জানুয়ারি: মানুষের ইচ্ছাশক্তি যদি হিমালয়ের মতো অটল হয়, তবে কোনো বাধাই তাকে থামাতে পারে না— এই কথাকেই যেন বাস্তবে প্রমাণ করে চলেছেন রাজস্থানের যুবক পাপ্পু রাম চৌধুরী। সাইকেলে চড়ে ৬০ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে রাজস্থানের নাগাউর জেলা থেকে শুরু হওয়া তাঁর অদম্য যাত্রা এবার পৌঁছেছে ত্রিপুরার ধর্মনগরে।
পাপ্পু রাম চৌধুরীর বাড়ি রাজস্থানের খিমসারে। সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা এই যুবক শুরু করেছেন এক অসাধারণ অভিযান, যার নাম তিনি দিয়েছেন ‘শক্তি সংকল্প সফর। ইতিমধ্যেই তিনি প্রায় ৩৯ হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে দেশের ২৩টি রাজ্য এবং ৬টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ভ্রমণ করেছেন। উত্তর-পূর্ব ভারতের আসাম, মেঘালয় ও অরুণাচল প্রদেশ ঘুরে এবার তিনি পা রাখলেন ত্রিপুরায়। ধর্মনগর সার্কিট হাউজে তিনি আজ রাত যাপন করবেন।
এই দীর্ঘ যাত্রার লক্ষ্য শুধু ব্যক্তিগত কৃতিত্ব অর্জন নয়, বরং সমাজকে একটি ইতিবাচক বার্তা দেওয়া। পাপ্পু রামের অভিযানের মূল উদ্দেশ্য তিনটি—
প্রথমত, লক্ষ বৃক্ষরোপণের সংকল্প, যার মধ্যে ইতিমধ্যেই ৩০ হাজার গাছের চারা রোপণ সম্পন্ন করেছেন তিনি। দ্বিতীয়ত, পথে পথে স্কুল ও কলেজের পড়ুয়াদের মধ্যে ট্রাফিক সচেতনতা ও সড়ক নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি। তৃতীয়ত, যুবসমাজকে মাদকাসক্তি থেকে দূরে সরিয়ে খেলাধুলা ও সুস্থ জীবনধারায় উদ্বুদ্ধ করা।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে পাপ্পু রাম বলেন,আমার লক্ষ্য শুধু মাউন্ট এভারেস্ট জয় করা নয়। আমি চাই ভারতের প্রতিটি তরুণের স্বপ্ন যেন এভারেস্টের থেকেও উঁচুতে পৌঁছায়। একটি সুস্থ, সচেতন ও শৃঙ্খলাবদ্ধ ভারত গড়াই আমার এই যাত্রার মূল উদ্দেশ্য।
ভারত-বাংলাদেশ ও ভারত-ভুটান সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকা, প্রতিকূল আবহাওয়া কিংবা পাহাড়ি পথ— কোনো কিছুই তাঁর সংকল্পকে দমাতে পারেনি। ত্রিপুরা সফর শেষ করে তিনি আরও গভীর পাহাড়ি অঞ্চলের দিকে রওনা দেবেন। চূড়ান্ত লক্ষ্য— বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় ভারতের তেরঙা পতাকা উড়ানো।
ত্রিপুরার মাটিতে এই দুঃসাহসী সাইকেল আরোহীকে এক ঝলক দেখতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে। সকলের একটাই কামনা— পাপ্পু রাম চৌধুরীর ‘শক্তি সংকল্প সফর’ সফল হোক এবং এভারেস্টের শিখরে গর্বের সঙ্গে উড়ুক ভারতের তেরঙা।



















