ভুবনেশ্বর, ২৫ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): ওড়িশা ভিজিল্যান্স দফতরের ইতিহাসে সর্বাধিক নগদ উদ্ধারের ঘটনা সামনে এল। বুধবার ভুবনেশ্বরে খনি দফতরের উপ-পরিচালক (কটক সার্কেল) দেবব্রত মহান্তির ফ্ল্যাট থেকে ৪ কোটিরও বেশি নগদ উদ্ধার করেছেন দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিকরা।
অভিযুক্ত দেবব্রত মহান্তিকে মঙ্গলবার রাতে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। অভিযোগ, এক লাইসেন্সপ্রাপ্ত কয়লা ব্যবসায়ীর ডিপো নির্বিঘ্নে চালানো ও কয়লা পরিবহনের অনুমতি দেওয়ার জন্য তিনি এই ঘুষ নেন।
গ্রেফতারের পর ওড়িশা ভিজিল্যান্স বিভাগ একযোগে একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালায়। ভুবনেশ্বরের পাটিয়ার শ্রী বিহার এলাকায় তাঁর আবাসিক ফ্ল্যাট, ভদ্রকের মাথাসাহিতে পৈতৃক বাড়ি এবং কটকে তাঁর দফতর কক্ষে তল্লাশি হয়। উদ্দেশ্য ছিল অভিযুক্ত আধিকারিকের বিরুদ্ধে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পত্তি (ডিএ) সংক্রান্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখা।
তল্লাশির সময় ভুবনেশ্বরের ফ্ল্যাট থেকে ট্রলি ব্যাগ ও আলমারিতে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় ৪ কোটিরও বেশি নগদ উদ্ধার হয়। সঠিক পরিমাণ নির্ধারণে টাকার গণনা প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। এছাড়া তাঁর দফতরের ড্রয়ার ও ব্যক্তিগত হেফাজত থেকে ১.২০ লক্ষ টাকা নগদ উদ্ধার হয়েছে।
নগদের পাশাপাশি ভুবনেশ্বরের পাহালা এলাকায় প্রায় ২,৪০০ বর্গফুটের একটি দোতলা বাড়ির সন্ধান মিলেছে। এছাড়া প্রায় ১৩০ গ্রাম সোনার অলঙ্কারও উদ্ধার হয়েছে।
এই ঘটনায় ওড়িশা ভিজিল্যান্স পুলিশ স্টেশন-এ দুর্নীতি প্রতিরোধ (সংশোধনী) আইন, ২০১৮-এর ৭ নম্বর ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।
উল্লেখ্য, ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি সোমবার বিধানসভায় জানিয়েছিলেন, ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ঘুষ গ্রহণ, সরকারি তহবিলে আর্থিক অনিয়ম ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পত্তির অভিযোগে মোট ৪১৬টি মামলা রুজু করেছে ভিজিল্যান্স দফতর।



















