স্টেট অফ দ্য ইউনিয়ন ভাষণে ‘গ্লোবাল রিসেট’-এর দাবি ট্রাম্পের, অর্থনৈতিক উত্থানের জোরালো বার্তা

ওয়াশিংটন, ২৫ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): মার্কিন কংগ্রেসের হাউস চেম্বারে “ইউএসএ, ইউএসএ” স্লোগানের মধ্যে প্রবেশ করে স্টেট অফ দ্য ইউনিয়ন ভাষণে ‘গ্লোবাল রিসেট’-এর দাবি তুললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার রাতের ভাষণে তিনি তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদকে “জাতীয় পুনরুদ্ধার অভিযান” হিসেবে তুলে ধরেন এবং বিরোধীদের অগ্রগতির প্রধান বাধা বলে আখ্যা দেন।

হাউস স্পিকার মাইক জনসন-এর পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পর এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জে.ডি. ভ্যান্স-কে পাশে নিয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের দেশ ফিরে এসেছে—আগের চেয়ে বড়, ভালো, সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী।” তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বর্ষপূর্তির প্রসঙ্গ তুলে বলেন, “এখনও কিছুই দেখেননি, আমরা আরও ভালো করব।”

অভিবাসন ইস্যুতে তিনি কড়া সুরে বলেন, “আমেরিকান সরকারের প্রথম দায়িত্ব আমেরিকান নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া, অবৈধ অভিবাসীদের নয়।” ডেমোক্র্যাটদের উদ্দেশে তিনি মন্তব্য করেন, “আপনাদের লজ্জা হওয়া উচিত।” তাঁর দাবি, গত নয় মাসে “একজনও অবৈধ অভিবাসীকে” যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি, যদিও বৈধ অভিবাসন অব্যাহত থাকবে।

অর্থনৈতিক নীতির কেন্দ্রে ছিল করছাড় ও শুল্কনীতি। ট্রাম্প বলেন, তাঁর আরোপিত শুল্ক থেকে “শত শত বিলিয়ন ডলার” রাজস্ব এসেছে এবং তা জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনীতির ক্ষেত্রে সাফল্য এনেছে। সুপ্রিম কোর্টের একটি সাম্প্রতিক রায়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, এই “দেশরক্ষাকারী” শুল্কনীতি বহাল থাকবে এবং তা ভবিষ্যতে আয়কর ব্যবস্থার বড় অংশ প্রতিস্থাপন করতে পারে।

ভাষণে ব্যক্তিগত উদাহরণও তুলে ধরেন ট্রাম্প। করছাড়ের সুবিধাভোগী হিসেবে মেগান হেমহাউজার, আইভিএফ রোগী ক্যাথরিন রেইনার এবং আবাসন নীতির প্রসঙ্গে র‍্যাচেল উইগিন্সের কথা উল্লেখ করেন। খেলাধুলার প্রসঙ্গে তিনি অলিম্পিক হকি দলের গোলরক্ষক কনর হেলিবাককে প্রশংসা করে তাঁকে প্রেসিডেনশিয়াল মেডেল অফ ফ্রিডম দেওয়ার ঘোষণা করেন।

তবে ভাষণের সবচেয়ে বিতর্কিত অংশ ছিল সোমালি সম্প্রদায় সম্পর্কে তাঁর মন্তব্য। তিনি অভিযোগ করেন, “সোমালি সম্প্রদায়ের কিছু সদস্য প্রায় ১৯ বিলিয়ন ডলার করদাতাদের অর্থ আত্মসাৎ করেছে।” পাশাপাশি অবাধ অভিবাসনের সমালোচনা করে বলেন, এতে “দুর্নীতি ও আইনশৃঙ্খলার অবক্ষয়” বাড়ে।

আইনশৃঙ্খলা প্রসঙ্গে তিনি ‘ডালিলাহ আইন’ পাসের আহ্বান জানান, যা অবৈধ অভিবাসীদের বাণিজ্যিক ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়া বন্ধ করবে। নিউ ইয়র্কের মেয়রকে কটাক্ষ করে তাঁকে “নতুন কমিউনিস্ট মেয়র” বললেও পরে রসিকতা করে বলেন, “আসলে উনি ভালো মানুষ।”

বিদেশনীতি প্রসঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি “আটটি যুদ্ধ শেষ করেছেন”, যার মধ্যে কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড, কসোভো-সার্বিয়া এবং ভারত-পাকিস্তানের সম্ভাব্য সংঘাতের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি ন্যাটো দেশগুলি জিডিপির ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষায় ব্যয় করতে সম্মত হয়েছে বলেও দাবি করেন এবং বলেন, “ইউক্রেনে যা পাঠাই, ন্যাটোর মাধ্যমে পাঠাই এবং তারা পুরো মূল্য দেয়।”

এছাড়া মাদক পাচার দমনে কঠোর পদক্ষেপের কথা জানিয়ে তিনি মেক্সিকান কার্টেলকে “বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন” হিসেবে চিহ্নিত করার কথা বলেন। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতারের দাবি করে তিনি বলেন, তাঁর “শাসনের অবসান” ঘটেছে—যদিও এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিতকরণ মেলেনি।

সব মিলিয়ে ট্রাম্পের স্টেট অফ দ্য ইউনিয়ন ভাষণ ছিল আত্মপ্রশংসা, রাজনৈতিক আক্রমণ ও নাটকীয় ঘোষণার মিশেলে এক উচ্চকণ্ঠ বার্তা, যেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি নতুন ‘সোনালি যুগ’-এর প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

Leave a Reply