পিলখানা হত্যাকাণ্ডের শহিদদের স্মরণে আওয়ামী লীগ, দণ্ডপ্রাপ্তদের মুক্তিকে ‘অন্যায়’ আখ্যা

ঢাকা, ২৫ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বর্ষপূর্তিতে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাল আওয়ামী লীগ। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্তদের মুক্তির ঘটনাকে ‘অন্যায়’ বলে আখ্যা দিয়ে এই ইস্যুতে ‘রাজনৈতিক ফায়দা তোলা’ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

বুধবার এক বিবৃতিতে আওয়ামী লীগ জানায়, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ছিল বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর অভ্যন্তরে একটি বিদ্রোহ। ওই ঘটনায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা ও ১৭ জন সাধারণ নাগরিকসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন।

২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ‘বিডিআর উইক’-এর সময় পিলখানায় অবস্থিত তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর)-এর সদর দফতরের দরবার হলে কয়েকশো সদস্য সশস্ত্র বিদ্রোহে সামিল হন। টানা তিন দিন ধরে চলা ওই বিদ্রোহে বহু প্রাণহানি ঘটে।

দলটির দাবি, ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে বিপুল জয়ের পর সরকার গঠনের পরপরই শেখ হাসিনা-র নেতৃত্বাধীন সরকার একটি ‘পরিকল্পিত ও নৃশংস আক্রমণ’-এর মুখে পড়ে, যার লক্ষ্য ছিল দেশকে গৃহসংঘাতের দিকে ঠেলে দেওয়া এবং নবগঠিত প্রশাসনকে অস্থিতিশীল করা। তবে শেখ হাসিনার “দক্ষ ও কৌশলী” নেতৃত্বে বিদ্রোহীরা শেষ পর্যন্ত আত্মসমর্পণ করে এবং জিম্মিদের মুক্তি দেয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

আওয়ামী লীগের বক্তব্য, এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত, বিচার ও মামলা দ্রুত ও স্বচ্ছ বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। ২০১৩ সালে বিচারিক আদালত ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড দেয়। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে হাইকোর্ট ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১৮৫ জনের যাবজ্জীবন এবং ২২৮ জনের বিভিন্ন মেয়াদের সাজা বহাল রাখে।

তবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার শতাধিক প্রাক্তন বিডিআর সদস্যকে মুক্তির অনুমোদন দেয় বলে অভিযোগ। দলটির দাবি, মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বাধীন প্রাক্তন অন্তর্বর্তী প্রশাসন ২৯৩ জন দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে খালাস দিয়েছে, যা “অন্যায়”। একই সঙ্গে পুনর্তদন্তের আহ্বান এবং নতুন তদন্ত কমিটি গঠনকে “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

দলটির বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত একটি জাতীয় স্বাধীন কমিশন ২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে তদন্ত করে একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, যা এখনও প্রকাশ্যে আনা হয়নি। এর মধ্যেই বহু দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছে এবং পিলখানা ঘটনার ‘রাজনৈতিক ব্যবহার’ বন্ধ করার দাবি তুলেছে।

Leave a Reply