গুয়াহাটি, ২৫ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): শিশুদের শিক্ষায় বিনিয়োগই রাজ্যের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার সবচেয়ে শক্তিশালী উপায় বলে মন্তব্য করেছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। বুধবার তিনি জানান, শিক্ষার পথে বাধা দূর করতে রাজ্য সরকার একাধিক কল্যাণমূলক প্রকল্প চালু করেছে।
সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক ও ইউনিফর্ম থেকে শুরু করে বৃত্তি, সাইকেল ও স্কুটি বিতরণ—শিক্ষার্থীদের সহায়তায় নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি লেখেন, “শিশুরা যখন শেখে, তখন আমাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত হয়। বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক ও ইউনিফর্ম থেকে বৃত্তি ও স্কুটি—আমরা শিক্ষার পথে সব বাধা দূর করছি, যাতে অসমের প্রতিটি শিশু বড় স্বপ্ন দেখতে পারে। কারণ অসমের ভবিষ্যৎ শুরু হয় তার শ্রেণিকক্ষ থেকেই।”
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, রাজ্য জুড়ে প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত ৫৭ লক্ষেরও বেশি শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক দেওয়া হচ্ছে, যাতে প্রয়োজনীয় শিক্ষাসামগ্রী সবার নাগালে পৌঁছায়। এছাড়া ৪৩.৩ লক্ষেরও বেশি ছাত্রছাত্রীকে বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম দেওয়া হয়েছে, যা অভিভাবকদের আর্থিক চাপ কমাতে সাহায্য করছে এবং বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি বাড়াচ্ছে।
গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের কিশোর-কিশোরীদের সহায়তায় নবম শ্রেণির ১০.০৩ লক্ষেরও বেশি শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে সাইকেল বিতরণ করা হয়েছে, যাতে যাতায়াতের সমস্যা কমে এবং স্কুলছুটের হার হ্রাস পায়।
এছাড়া চার লক্ষেরও বেশি শিক্ষার্থীকে বার্ষিক ফি মকুবের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, ফলে আর্থিক অসুবিধার কারণে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা কমছে।
মেধাবী শিক্ষার্থীদের, বিশেষ করে ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষায় উৎসাহিত করতে বৃত্তি ও স্কুটি বিতরণ কর্মসূচিও চালু রয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “এই উদ্যোগগুলি শুধু কল্যাণমূলক প্রকল্প নয়, মানবসম্পদ উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ।”
রাজ্য সরকার বিদ্যালয় পরিকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল অংশের শিক্ষার্থীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সরকারি সূত্রের দাবি, শিক্ষা-কেন্দ্রিক এই পদক্ষেপগুলির ফলে রাজ্যের সরকারি বিদ্যালয়গুলিতে ভর্তি, উপস্থিতি ও ধারাবাহিকতা—তিন ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।

