নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১২ জানুয়ারি৷৷ প্রয়াত হয়েছেন বিজেপি ত্রিপুরা প্রদেশ কমিটির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুধীন্দ্র চন্দ্র

দাশগুপ্ত৷ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ১০ মিনিটে আগরতলার কলেজটিলাস্থিত নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন৷ মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর৷ তাঁর মৃত্যুতে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার গভীর শোক প্রকাশ করেছেন৷ প্রয়াতের বাসভবনে গিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী তপন চক্রবর্তী৷ বিজেপির বর্তমান রাজ্য সভাপতি সহ দলীয় কর্মকর্তা ও কর্মীরা এদিন তার মৃত্যু সংবাদ শুনে ছুটে যান৷ বিজেপি রাজ্য সভাপতি সহ অন্যান্যরা তাঁকে পুষ্পস্তবক দিয়ে শ্রদ্ধা জানান৷ তাঁর মৃতদেহ দলীয় সদর কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হলে দলের সকল অংশের কর্মীরা তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন৷ সেখান থেকে মিছিল করে তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় বটতলা মহাশ্মশানে৷ এদিন তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে৷
প্রয়াত সুধীন্দ্র চন্দ্র দাশগুপ্ত ১৯৩৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন৷ ১৯৬৯ সালে কল্যাণপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষক হিসেবে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন৷ ঐ সালেই কর্মচারী আন্দোলনের সাথেও তিনি জড়িয়ে পড়েন৷ তিনি রাজ্যে কর্মচারী আন্দোলনের অন্যতম কান্ডারি ছিলেন৷ সে সময় থেকেই বামপন্থী আন্দোলনের সাথেও যুক্ত হন৷ তাঁর সভাপতিত্বে ত্রিপুরা শিক্ষক সমিতি গঠিত হয়৷ দুইবার শিক্ষক সমিতির সভাপতিও নিযুক্ত হয়েছেন তিনি৷ পরবর্তী সময়ে ত্রিপুরা শিক্ষক সমিতি থেকে রাজনৈতিক স্বার্থে পরিচালিত হওয়ার বিরুদ্ধে তিনি পদত্যাগ করেন৷ এরপর ত্রিপুরা নাগরিক মঞ্চ নামে স্বর্গীয় জিতেন পালের সাথে একটি সামাজিক আন্দোলনও তিনি যুক্ত হন৷ সারা ত্রিপুরা এবং বরাক ভ্যালিতে এই মঞ্চের ব্যাপক প্রচার করেন৷ ২০০০ সালে তিনি ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দেন৷ প্রাক্তন সভাপতি রণজয় কুমার দেবের সভাপতিত্বে বিজেপি রাজ্য কমিটির সাধারণ সম্পাদক এবং সহ সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন৷ পরবর্তী সভাপতি নীলমণি দেবের সভাপতিত্বে তিনি রাজ্য কমিটির সাধারণ সম্পাদক এবং রাজ্য মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করেন৷ ২০১১ সালের আগস্ট মাসে তিনি বিজেপির রাজ্য কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পান৷ ৬ জানুয়ারি ২০১৬ পর্যন্ত বিজেপি রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব তিনি পালন করেন৷ তাঁর সভাপতিত্বেই বিজেপি প্রথম বার এরাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচনে সফলতা পান৷ একজন বিশিষ্ট লেখক হিসেবেও রাজ্যে তিনি খ্যাতি অর্জন করেছেন৷ ত্রিপুরায় প্রথম ক্রসকান্ট্রি দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন তাঁর হাত দিয়েই হয়েছে৷ তিনি যাত্রা খুব পছন্দ করতেন৷
বিজেপি রাজ্য শাখার প্রাক্তন সভাপতি সুধীন্দ্র চন্দ্র দাশগুপ্তের প্রয়াণে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার গভীর শোক প্রকাশ করেছেন৷ এক শোকবার্তায় তিনি বলেছেন, বিজেপি’র রাজ্য শাখার প্রাক্তন সভাপতি সুধীন্দ্র চন্দ্র দাশগুপ্তের প্রয়াণে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি৷ তিনি একজন উদ্যোগী শারীরশিক্ষক ছিলেন৷ ১৯৭০-এর দশকে ত্রিপুরায় বামপন্থী শিক্ষক কর্মচারী আন্দোলনের সঙ্গে তিনি ওতপ্রোতভাবে যুক্ত ছিলেন৷ অবিভক্ত খোয়াই অধুনা তেলিয়ামুড়া মহকুমার অন্তর্গত কল্যাণপুরের যে ছাত্র আন্দোলন শচীন্দ্রলাল সিংহের তৎকালীন জনবিরোধী স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র-শিক্ষক-কর্মচারী তথা গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে বেগবান করেছিল, সে সময়ে আন্দোলনের ময়দানেই তাঁর সাথে সাক্ষাৎ হয় এবং পর্যায়ক্রমে আমাদের সখ্যতা গড়ে ওঠে৷ কল্যাণপুর আন্দোলনে যুক্ত থাকার কারণে তিনি আক্রান্তও হয়েছিলেন৷
প্রয়াত সুধীন্দ্র চন্দ্র দাশগুপ্তের শোক-সন্তপ্ত পরিবার-পরিজনদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করছি৷
এদিন, তাঁর মৃত্যুর খবর পেয়েই বিজেপি রাজ্য সভাপতি বিপ্লব দেব সহ দলীয় নেতৃবৃন্দরা প্রয়াতের বাসভবনে ছুটে যান৷ দলের উত্তরপূর্বাঞ্চলের কার্যালয় ইনচার্জ ও বিজেপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুন্দরপাল তাঁর মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে গুয়াহাটি থেকে আগরতলা ছুটে আসেন৷ এদিন তাঁর শ্মশানযাত্রায় দলের রাজ্য প্রভারী সুনীল দেওধরও অংশ নেন৷