শ্রীনগর, ২৬ ডিসেম্বর: কাশ্মীরের প্রবীণ ধর্মীয় নেতা ও প্রধান ইমাম মিরওয়াইজ উমর ফারুক শুক্রবার জানিয়েছেন, তাঁর এক্স (পূর্বতন টুইটার) প্রোফাইল থেকে ‘হুররিয়ত চেয়ারম্যান’ উপাধি সরাতে তাঁকে প্রশাসনের তরফে চাপ দেওয়া হয়েছিল। পরিস্থিতি তাঁকে কার্যত “হবসনের চয়েস”-এর সামনে দাঁড় করিয়েছিল বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মিরওয়াইজ উমর ফারুক লেখেন, কিছু সময় ধরেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমার এক্স হ্যান্ডেলে ‘হুররিয়ত চেয়ারম্যান’ পরিচয় পরিবর্তনের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। কারণ, হুররিয়ত কনফারেন্সের সব শরিক সংগঠন যার মধ্যে আমার নেতৃত্বাধীন আওয়ামি অ্যাকশন কমিটিও রয়েছে—ইউএপিএ-র আওতায় নিষিদ্ধ হয়েছে। ফলে হুররিয়ত এখন একটি নিষিদ্ধ সংগঠন। বলা হয়েছিল, পরিবর্তন না করলে আমার হ্যান্ডেল সরিয়ে দেওয়া হবে।
তিনি আরও লেখেন, যখন জনপরিসর ও যোগাযোগের মাধ্যমগুলো মারাত্মকভাবে সীমিত, তখন এই প্ল্যাটফর্মটি আমার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার এবং আমাদের বিষয়গুলি তাদের ও বাইরের বিশ্বের সামনে তুলে ধরার অন্যতম অল্প কয়েকটি মাধ্যম। এই পরিস্থিতিতে আমার সামনে কোনও বাস্তব বিকল্প ছিল না।”
উল্লেখ্য, মিরওয়াইজ উমর ফারুক ছিলেন ১৯৯৩ সালে গঠিত সর্বদলীয় হুররিয়ত কনফারেন্স (এপিএইচসি)-র প্রথম চেয়ারম্যান। এই সংগঠনে বিচ্ছিন্নতাবাদী রাজনৈতিক দল, ব্যবসায়ী সংগঠন ও বিভিন্ন নাগরিক সমাজের গোষ্ঠী অন্তর্ভুক্ত ছিল। হুররিয়ত কনফারেন্স কাশ্মীরকে একটি “বিতর্কিত অঞ্চল” হিসেবে উল্লেখ করে এবং কাশ্মীর ইস্যুতে রাষ্ট্রসংঘের প্রস্তাব কার্যকর করার দাবি জানিয়ে আসছিল।
২০১৯ সালে সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল হওয়ার পর হুররিয়ত কনফারেন্সকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর সংগঠনের সব শরিক গোষ্ঠীর আর্থিক ও সাংগঠনিক কার্যকলাপ নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলি তদন্ত শুরু করে। তদন্তে অভিযোগ ওঠে, এই সংগঠনগুলির অর্থের উৎস পাকিস্তান এবং পাকিস্তানের বাইরে আইএসআই-র মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যুক্ত।
২০১৯ সালের পর থেকে হুররিয়ত কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে এবং তার শরিক সংগঠনগুলিও একে একে বিচ্ছিন্নতাবাদী রাজনীতি থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নিতে শুরু করে। এক সময় হুররিয়তের ব্যানারে বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মসূচি, বনধ ও প্রতিবাদের ডাক দেওয়া হতো, যা পরে সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলির মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে বলে অভিযোগ।
জম্মু ও কাশ্মীর সরাসরি কেন্দ্রীয় শাসনের আওতায় আসার পর থেকে হুররিয়তের ডাকে রাস্তার প্রতিবাদ, বনধ বা মিছিল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে কাশ্মীরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটনসহ দৈনন্দিন জীবন স্বাভাবিকভাবে চলছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, মিরওয়াইজ উমর ফারুকের পিতা প্রয়াত মিরওয়াইজ মৌলানা মহম্মদ ফারুক ১৯৬৩ সালে পবিত্র অবশেষ আন্দোলনের সময় আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি গঠন করেছিলেন। এই সংগঠনটিও বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে পরে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

