নয়াদিল্লি, ১০ ডিসেম্বর : তৃণমূল কংগ্রেস আগামী শীতকালীন সংসদ অধিবেশনে প্রতিদিন নতুন, নির্দিষ্ট ইস্যু নিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করার পরিকল্পনা নিয়েছে। দলের মূল লক্ষ্য হবে পশ্চিমবঙ্গের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে বকেয়া অর্থের দাবি তোলা, যা দীর্ঘদিন ধরে মেটানো হয়নি।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদরা প্রতিদিন একটি নতুন প্রতিবাদ করবেন, আলাদা পোস্টার এবং প্ল্যাকার্ড নিয়ে সংসদের আশপাশে প্রদক্ষিণ করবেন। দলের এই প্রতিবাদের মূল উদ্দেশ্য হলো বিজেপি-নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রের কাছে ২০টি প্রশ্ন তুলে ধরা, যার মধ্যে রয়েছে অর্থ মুক্তি, দুর্যোগ ত্রাণ, অবকাঠামো প্রকল্প এবং সাংস্কৃতিক স্বীকৃতি সংক্রান্ত বিষয়।
তৃণমূলের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন স্কিমের আওতায় পশ্চিমবঙ্গের জন্য বরাদ্দ হাজার হাজার কোটি টাকা এখনও মেটানো হয়নি। এর মধ্যে রয়েছে এমজিএন-রেগা, পিএম আবাস যোজন (গ্রামীণ), সামগ্রিক শিক্ষা, পিএম গ্রাম সড়ক যোজনা এবং জল জীবন মিশন। তৃণমূল নেতারা আরও দাবি করেছেন, আমফান, ইয়াস এবং বুলবুল ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষতিপূরণও এখনও মেলেনি, এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুর্যোগ সহায়তা তহবিলের টাকা মুক্তি পায়নি।
এছাড়া, দলের প্রশ্ন রয়েছে দীভি সেচ প্রকল্পের জল ছাড়ার কারণে বন্যা পরিস্থিতি, যা রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা না করেই জল ছাড়া হয়, সেই সংক্রান্ত বিষয়ে। তৃণমূলের দাবিতে রয়েছে ভারতীয় রেলওয়ে স্টেশন পুনর্নির্মাণ প্রকল্পে বিলম্ব, এবং পশ্চিমবঙ্গের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থায় তহবিলের অপ্রতুল প্রবাহও।
তৃণমূলের ২০-পয়েন্টের দাবির মধ্যে সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক দাবিও রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সর্ণা বা সাড়ি ধর্মকে পৃথক ধর্ম হিসেবে স্বীকৃতি, কুর্মালি এবং রাজবংশী কামতাপুরি ভাষাকে অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্তি, গঙ্গাসাগর মেলা জাতীয় মেলায় পরিণত করার দাবি, পয়লা বৈশাখকে পশ্চিমবঙ্গ ফাউন্ডেশন ডে হিসেবে ঘোষণা এবং রাজ্যের নাম পরিবর্তন করে ‘বাংলা’ করার প্রস্তাব।
দলটির নেতারা জানিয়েছেন, তারা শীতকালীন অধিবেশনে এই বকেয়া দাবির বিষয়ে বার বার সরকারের কাছে প্রশ্ন তুলবেন, যা তাদের মতে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সংসদীয় চাপ সৃষ্টি করার একটি অংশ।
এছাড়া, সি রাজাগোপালাচারি (রাজাজী) এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে সংসদের কেন্দ্রীয় হলে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়। তৃণমূলের সাংসদ ইউসুফ পাঠান এবং জুন মালিয়া এই শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
দলটি মনে করে, শীতকালীন অধিবেশন কেন্দ্র-রাজ্য অর্থ এবং সাংবিধানিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ প্রদান করবে, যা সংসদের মধ্যে জোরালো বিতর্কের কারণ হতে পারে।

