আরবিআই রেপো রেট ২৫ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ৫.২৫% বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে সিদ্ধান্ত

মুম্বাই, ৫ ডিসেম্বর: আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা শুক্রবার ঘোষণা করেছেন যে মনিটারি পলিসি কমিটি (এমপিসি) সর্বসম্মতিক্রমে রেপো রেট ২৫ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ৫.৫ শতাংশ থেকে ৫.২৫ শতাংশে নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করাই এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য।

গভর্নর জানান, বাজারে তারল্য বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১ লক্ষ কোটি টাকার সরকারি সিকিউরিটি ক্রয়ের মাধ্যমে ওপেন মার্কেট অপারেশন (ওএমও) পরিচালনা করবে। পাশাপাশি ৫ বিলিয়ন ডলারের ডলার-রুপি সোয়াপ ব্যবস্থাও চালু করা হবে।

মালহোত্রা বলেন, চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে ৮.২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি ১.৭ শতাংশে নেমে আসা—এই দুই পরিস্থিতি মিলে অর্থনীতিকে বিরল “গোল্ডিলকস” পরিস্থিতিতে নিয়ে এসেছে। মূল্যস্ফীতি কম থাকায় রেপো রেট কমানোর জন্য যথেষ্ট অবকাশ তৈরি হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আরবিআই আগামী অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৬.৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭.৩ শতাংশ করেছে। একই সঙ্গে নীতিগত অবস্থান “নিউট্রাল” রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নিউট্রাল স্ট্যান্সের অর্থ হলো—তারল্য নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত কড়াকড়ি বা শিথিলতা কোনোটাই নয়; বরং মুদ্রাস্ফীতি দমন এবং প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার মধ্যে ভারসাম্য রাখা।

গভর্নর জানান, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৬৮৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা ১১ মাসের আমদানি ব্যয়ের জন্য যথেষ্ট। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অনিশ্চয়তা অর্থনীতির উপর ঝুঁকি তৈরি করে চলেছে।

এর আগে আগস্ট ও অক্টোবর মাসের নীতিসমীক্ষায় রেপো রেট অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কারণে। তবে ফেব্রুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে আরবিআই ৬.৫ শতাংশ থেকে ৫.৫ শতাংশে রেপো রেট কমিয়েছিল মোট ১০০ বেসিস পয়েন্ট।

রেপো রেট কমলে এবং ব্যাংকগুলোর হাতে তারল্য বাড়লে ঋণের সুদের হার কমে, ফলে গ্রাহক ও ব্যবসায়ীরা সহজে ঋণ পেতে পারেন। এতে ভোগব্যয় ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেয়ে অর্থনীতিতে গতি আসে। তবে এই সুবিধা কত দ্রুত এবং কতটা কার্যকরভাবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ঋণগ্রহীতাদের কাছে পৌঁছে দিতে পারে, তার ওপরই রেপো রেট কমানোর প্রকৃত ফল নির্ভর করছে।