গোবিন্দগঞ্জ, ৬ নভেম্বর : কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা বৃহস্পতিবার বিহারের গোবিন্দগঞ্জে এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন। তিনি অভিযোগ করেন, দেশে এখন এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে মানুষ নিজেদের অধিকার চাইতেও ভয় পায়।
সভায় প্রিয়াঙ্কা এক শৈশবস্মৃতি শেয়ার করে বলেন, আমি যখন ১০–১২ বছরের ছিলাম, তখন অমেঠিতে এক নারীকে দেখেছিলাম যিনি আমার বাবা রাজীব গান্ধীকে বকছিলেন। তিনি বলেছিলেন, তুমি প্রধানমন্ত্রী হতে পারো, কিন্তু তুমি আমাদের এলাকায় কল বসানোর কথা বলেছিলে, এখনো হয়নি, তাই এবার আমরা তোমাকে ভোট দেব না। তখনও সেই মহিলার কোনো ভয় ছিল না। তাঁর কথায়, সেটা ছিল এমন এক সময় যখন মানুষ নির্ভয়ে নিজের দাবি তুলতে পারত। কিন্তু আজ পরিস্থিতি বদলে গেছে। এখন যদি কেউ নিজের অধিকার চায়, পুলিশ লাঠি চালায়, প্রশাসন কণ্ঠরোধ করে।
প্রিয়াঙ্কা বলেন, মহাত্মা গান্ধী এমন এক রাজনীতির ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, যেখানে জনগণই ছিল সর্বোচ্চ। আজ আমাদের প্রয়োজন সেই চেতনায় ফিরে যাওয়া, যেখানে জনগণের কণ্ঠই সবচেয়ে বড়। তিনি আরও বলেন, বিহারের মানুষই মহাত্মা গান্ধীকে সত্যাগ্রহের পথ দেখিয়েছিল। আজ আবার বিহারের জনগণকে বুঝতে হবে যে, এই দেশের নির্মাণে তাদেরই সবচেয়ে বড় ভূমিকা রয়েছে।
গোবিন্দগঞ্জের সভায় প্রিয়াঙ্কা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে বলেন, নরেন্দ্র মোদির কাজ শুধু পোস্টার দেখে লোকের ছবি মাপা। দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েও তাঁর অন্য কোনো কাজ আছে বলে মনে হয় না। তিনি বলেন, যদি বিহারের নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হয়, তবে জনগণ বিজেপিকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করবে।
কংগ্রেস নেত্রী বিহার ও উত্তরপ্রদেশের যুবকদের দুর্দশা নিয়েও তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, তরুণরা বারবার পরীক্ষা দেয়, কিন্তু প্রতিবার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যায়। চাকরির অপেক্ষায় তাদের জীবনের বহু বছর নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রিয়াঙ্কা বলেন, বিহারের মানুষ প্রতিটি রাজ্যে পরিশ্রম করে, এই দেশের নির্মাণে তাদের অবদান অসীম। কিন্তু মোদি সরকার তাদের সম্মান দেয় না। এই সরকারের চোখে বিহারের মানুষ বা এখানকার মুখ্যমন্ত্রী কারোরই কোনো মর্যাদা নেই।
প্রিয়াঙ্কা অভিযোগ করেন, বিজেপি–জেডিইউ টাকার বিনিময়ে ভোট কিনতে চাইছে। ভোট যদি দেয়ও, নিজের ভবিষ্যতের কথা ভেবে দাও। কারণ ২০ বছরেও এরা কিছু করেনি। তিনি আরও দাবি করেন, বিজেপি ভোট কাটছে, নির্বাচন চুরি করছে। ভোট চুরি মানে জনগণের অধিকার কেড়ে নেওয়া, সেই সংবিধানকেই দুর্বল করা, যার জন্য মহাত্মা গান্ধী লড়েছিলেন, আর আমার পরিবার শহিদ হয়েছিল।
প্রিয়াঙ্কা বলেন, আমি এক ছবি দেখেছিলাম। বিজেপির বড় নেতারা নাকি গরিবের ঘরে খেতে গেছেন, কিন্তু নিজেদের থালা আর খাবার সঙ্গে নিয়ে গেছেন! এটাই বিজেপির আসল চেহারা। এরা গরিবের ঘরে যায় না, গরিবের খাবার খায় না, জনগণের কণ্ঠ শোনে না।
তিনি সভার শেষে আহ্বান জানান, বিহারের মানুষ এমন এক সরকার গড়ুক, যা মহিলাদের, যুবকদের, কৃষকদের এবং গরিবের জন্য কাজ করবে। ভোট চুরি নয়, জনগণের অধিকার রক্ষা করবে।

