আগরতলা, ২২ অক্টোবর:
তিথি অনুযায়ী আজ ভাইফোঁটা — ভাই-বোনের চিরন্তন সম্পর্ক ও মমতার প্রতীকী উৎসব। বাংলার ঘরে ঘরে আজ সকাল থেকেই উৎসবের আমেজ। ভাইয়ের কপালে চন্দনের ফোঁটা, হাতে রঙিন আরতি থালা, প্রদীপের আলোয় ভরে উঠেছে পরিবারের প্রতিটি কোণ। বোনেরা আজ ভালোবাসা ও আশীর্বাদের ফোঁটা দিয়ে ভাইয়ের দীর্ঘজীবন, সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করছে।
প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, যমরাজ ও যমুনা দেবীর কিংবদন্তির মধ্য দিয়েই ভাইফোঁটার সূচনা। বলা হয়, যমুনা দেবী একদিন তার ভাই যমরাজের কপালে ফোঁটা দিয়ে তাঁর দীর্ঘায়ু কামনা করেছিলেন। সেই থেকে এই তিথিতে ভাইয়ের কপালে ফোঁটা দেওয়ার প্রথা শুরু হয়।
এই দিনটি শুধুমাত্র এক ধর্মীয় আচার নয়, বরং এটি পারিবারিক ভালোবাসা, সম্পর্ক ও স্নেহের এক সামাজিক উৎসব। বোনেরা ভাইদের কপালে চন্দন বা সিঁদুরের ফোঁটা দেয়, প্রদীপ জ্বালিয়ে আরতি করে, তারপর মিষ্টান্ন খাইয়ে আশীর্বাদ জানায়। অন্যদিকে ভাইয়েরা বোনদের উপহার দিয়ে সারা জীবনের জন্য রক্ষা করার অঙ্গীকার করে।
রাজধানী আগরতলাসহ ত্রিপুরার সর্বত্রই আজ ভাইফোঁটা উপলক্ষে উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে। সকালে মন্দিরে পূজা, বাড়িতে ফুল, আলো ও মিষ্টির সাজে ভরে উঠেছে ঘরবাড়ি। ছোটরা যেমন আনন্দে মেতে উঠেছে, তেমনি বয়োজ্যেষ্ঠরাও পারিবারিক মিলনের মুহূর্তে আবেগাপ্লুত।
আজকের দিনে শুধু রক্তের সম্পর্ক নয়, মনের সম্পর্কের ভাই-বোনেরাও একে অপরের কপালে ফোঁটা দিচ্ছেন— বন্ধুত্ব, সৌহার্দ্য ও মানবিকতার বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে তুলতে।
ভাইফোঁটার এই দিনটি তাই শুধুমাত্র উৎসব নয়, এটি সম্পর্কের মাধুর্য ও ভালোবাসার এক প্রতীকী দিন, যা বারবার মনে করিয়ে দেয় —“ভাই-বোনের সম্পর্ক চির অটুট, চির অনন্য।”

