নতুন দিল্লি, ১১ অক্টোবর : ইসরায়েলের গাজায় হামলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে শুরু হওয়া ইসলামপন্থী দল তেহরিক-ই-লাব্বাইক পাকিস্তান (টিএলপি)-এর বিক্ষোভ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতে টানা দ্বিতীয় দিন অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। পুলিশের গুলিতে অন্তত ১১ জন বিক্ষোভকারী নিহত এবং ৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ।
শনিবার লাহোরে বিক্ষোভকারীদের ইসলামাবাদ অভিমুখে রওনা হওয়া ঠেকাতে গেলে পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ বাঁধে। টিএলপি অভিযোগ করেছে, পাঞ্জাব পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালাচ্ছে। পুলিশের বিরুদ্ধে ‘ইসরায়েলি দালালি’র অভিযোগ তুলেছেন সংগঠনের নেতারা।
এক ভাইরাল ভিডিওতে সংগঠনের এক নেতা বলেন, “আজ সকাল থেকে এখন পর্যন্ত ১১ জন টিএলপি কর্মী শহীদ হয়েছেন। এখনও অবিরাম গুলি ও শেলিং চলছে।” ভিডিওর পেছনে গুলির শব্দ স্পষ্ট শোনা যায়।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার গাজায় ইসরায়েলের হামলার বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। শনিবার সেই বিক্ষোভ আরও তীব্র আকার নেয়। পুলিশ একাধিক স্থানে কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে এবং লাঠিচার্জ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। পাল্টা জবাবে বিক্ষোভকারীরাও ইট-পাটকেল ছোঁড়ে।
ইসলামাবাদ অভিমুখে টিএলপির মিছিল রুখতে পুলিশের তরফে শহরের বিভিন্ন রাস্তায় ব্যারিকেড, শিপিং কনটেইনার বসানো হয়েছে। এমনকি কিছু এলাকায় খোঁড়া হয়েছে বড় গর্ত। সংগঠনের প্রধান সাদ রিজভির নেতৃত্বে হাজার হাজার মানুষ রাজধানী অভিমুখে এগোনোর চেষ্টা করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় তাদের নাগরিকদের বড় জমায়েত এড়িয়ে চলতে এবং সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
শুক্রবার লাহোরে জুমার নামাজের সময় সাদ রিজভি বলেন, “গ্রেফতার ভয়ের বিষয় নয়, গুলি আমাদের রুখতে পারবে না, শহিদ হওয়াই আমাদের নিয়তি।”
ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলি বন্ধ, দোকান ও স্কুল বন্ধ, বন্ধ রয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবাও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত নিরাপত্তাবাহিনী।
—

