আগরতলা, ৩ অক্টোবর: দশমীর রাতে, যখন গোটা এলাকা বিজয়ার আনন্দে মত্ত ঠিক তখনই নেতাজি প্লেফরাম সেন্টারে আয়োজিত আনন্দমেলায় ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ঘটনা। রাধানগর থেকে আগত এক পরিবার স্বামী, স্ত্রী ও সন্তান — আনন্দমেলায় অংশ নিতে গিয়ে আক্রান্ত হন কিছু স্থানীয় যুবকের দ্বারা যারা ওই মেলার আয়োজক ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আক্রান্ত পরিবারের সদস্যদের দাবি, নাগরদোলা চড়তে যান ওই পরিবারের গৃহবধূ ও তাঁর সন্তান। এসময় তাঁর স্বামী নিচে দাঁড়িয়ে ক্লাবের স্বেচ্ছাসেবকদের অনুরোধ করেন নাগরদোলাটি আরও কিছুক্ষণ চালানোর জন্য। তবে ছোট্ট এই অনুরোধ থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। প্রাথমিক তর্কবিতর্কের জেরে ক্লাবের স্বেচ্ছাসেবক সদস্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং অভিযোগ, একাধিক সদস্য মিলে ওই ব্যক্তিকে মারধর করেন। তাঁকে মাটিতে ফেলে ব্যাপকভাবে প্রহার করা হয়। স্ত্রী যখন এগিয়ে আসেন স্বামীকে রক্ষা করতে, তখন তাঁর উপরও চড়াও হয় অভিযুক্ত যুবকেরা।
মহিলার অভিযোগ, অভিযুক্তরা — কৌশিক আচার্য, দ্বীপায়ন সাহা ওরফে বিল্টু, সাগর দে, ও কিষাণ বিশ্বাস — তাঁকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন এবং তাঁর গায়ে হাত তোলেন। ঘটনার পরই ১১২ নম্বরে ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান আক্রান্তরা। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছলেও অভিযোগ, ততক্ষণে অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। পুলিশ আনন্দমেলা আয়োজকদের থানায় নিয়ে যায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এবং আক্রান্ত পরিবারকে প্রথমে আইজিএম হাসপাতালে ও পরে গুরুতর অবস্থায় জিবিপি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
চাঞ্চল্যকরভাবে, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ক্লাব সদস্যদের আর এলাকায় দেখা যায়নি। তবে স্থানীয়রা জানান, থানার চত্বরে কিছু ক্লাব সদস্য উপস্থিত ছিলেন, যদিও তাদের বিরুদ্ধে কোনও গ্রেপ্তারি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কিনা তা এখনো স্পষ্ট নয়।

