গুয়াহাটি, ৯ সেপ্টেম্বর — দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা জাতি শংসাপত্র ইস্যুতে সমাধানের পথে এগোলো আসাম সরকার। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সোমবার ঘোষণা করেছেন যে চা-জনজাতি ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের জাতি শংসাপত্র সংক্রান্ত সমস্যার সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাধান হয়েছে। এই সমাধান সম্ভব হয়েছে আসাম টি ট্রাইব স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন ও অল আদিবাসী স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অফ আসাম -এর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকার খুব শিগগিরই এ বিষয়ে একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করবে।
এই আশ্বাস আসে এমন এক সময়ে, যখন তিনসুকিয়ার মাকুমে এনএইচ-৩৭-এ শত শত এএএসএএ সদস্য বিক্ষোভে নামে। তাদের দাবি ছিল, বর্তমানের ব্যাপক ও অস্পষ্ট শ্রেণিবিভাগের বদলে নির্দিষ্ট আদিবাসী পরিচয়ের ভিত্তিতে জাতি শংসাপত্র প্রদান করতে হবে। বর্তমানে রাজ্য সরকার চারটি বিভাগ — চা-বাগান শ্রমিক, চা-বাগান জনজাতি, প্রাক্তন চা-বাগান শ্রমিক ও প্রাক্তন চা-বাগান জনজাতি — এর আওতায় ওবিসি শংসাপত্র দিয়ে থাকে, যা বিক্ষোভকারীদের মতে প্রায় ১০০-রও বেশি পৃথক জাতিগোষ্ঠীর নিজস্বতা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে মুছে দিচ্ছে।
এএএসএএ নেতারা অভিযোগ করেন, এই শ্রেণিবিভাগের ফলে সাঁওতাল, ওড়াঁও, মুন্ডা, খরিয়া, ভুমিজ, তেলি, টাঁটি, কুর্মি, কর্মকার, মহতো, নাগবংশী, কানিকা ও রাজগড়-এর মতো জনগোষ্ঠীর স্বতন্ত্র জাতিগত পরিচয় হারিয়ে যাচ্ছে। তারা হুঁশিয়ারি দেন, এই ইস্যুতে যদি আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগেই সরকার কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তবে রাজনৈতিক পরিণতি ভোগ করতে হবে বিজেপি সরকারকে।
বিক্ষোভ শেষে একটি স্মারকলিপি স্থানীয় সার্কল অফিসারকে জমা দেওয়া হয়। সংগঠন জানিয়েছে, সরকার যদি শীঘ্রই কোনও নির্দিষ্ট পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে তারা আন্দোলন আরও তীব্রতর করবে।
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার ফলে আপাতত কিছুটা উত্তেজনা প্রশমিত হতে পারে, তবে আদিবাসী নেতৃবৃন্দ সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়া জানাতে রাজি নন।
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা, কারণ আদিবাসী জনগোষ্ঠী রাজ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ ভোটব্যাংক হিসেবে উঠে এসেছে।



















