দুবাই, ৯ সেপ্টেম্বর — কেন্দ্রীয় যোগাযোগ ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য এম. সিন্ধিয়া আজ দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত ২৮তম ইউনিভার্সাল পোস্টাল কংগ্রেসে ভারতের ইউপিআই–ইউপিইউ ইন্টিগ্রেশন প্রকল্প উন্মোচন করলেন। তিনি একে বৈপ্লবিক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেন যা বৈশ্বিক রেমিট্যান্স ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এনে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাবে।
এই যুগান্তকারী উদ্যোগটি যৌথভাবে গড়ে তুলেছে ভারতের ডাক বিভাগ, এনপিসিআই ইন্টারন্যাশনাল পেমেন্টস লিমিটেড এবং ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়ন। এতে ভারতের ইউনিফাইড পেমেন্টস ইন্টারফেস যুক্ত হয়েছে ইউপিইউ ইন্টারকানেকশন প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে, যার ফলে ডাক পরিষেবার ব্যাপক পরিসর এবং ইউপিআই-এর গতি ও কম খরচ একসঙ্গে কাজে লাগানো যাবে।
সিন্ধিয়া বলেন, “এটি শুধুমাত্র প্রযুক্তি সূচনার বিষয় নয়, বরং একটি সামাজিক দায়বদ্ধতা।” এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিশ্বের যে কোনও প্রান্তে থাকা পরিবারগুলি সহজেই ও সাশ্রয়ী খরচে টাকা পাঠাতে পারবেন। পাশাপাশি, ডাক বিভাগ বিশ্বস্ত জনসেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবেও আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
মন্ত্রী আরও ঘোষণা করেন যে, ভারত এই চক্রে ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে উদ্ভাবন, ই-কমার্স, ডিজিটাল পেমেন্ট, প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে। ভারত ইউপিইউ-এর কাউন্সিল অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং পোস্টাল অপারেশনস কাউন্সিল-এ প্রার্থীতার কথাও জানিয়েছে।
ভারতের অন্তর্ভুক্তিমূলক মডেলের প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, আধার, জনধন এবং ইন্ডিয়া পোস্ট পেমেন্টস ব্যাংক-এর মাধ্যমে ইতিমধ্যেই ৫৬০ মিলিয়নেরও বেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে, যার মধ্যে অধিকাংশই মহিলাদের নামে। ২০২৪-২৫ সালে ইউপিআই মাধ্যমে ১৮৫ বিলিয়নের বেশি লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে, যার মূল্য ২.৮৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার – যা বিশ্বের ডিজিটাল পেমেন্টের প্রায় অর্ধেক।
মন্ত্রী বলেন, “এক সময় যেখানে রেমিট্যান্স মানেই ছিল উচ্চ ফি ও দীর্ঘ সময়, আজ সেখানে ইউপিআই-এর মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে ও কম খরচে টাকা পাঠানো সম্ভব হচ্ছে। ইউপিআই ইতিমধ্যেই গালফ অঞ্চলে এবং প্যারিসের আইফেল টাওয়ারেও গৃহীত হচ্ছে।”
ইউপিআই-ইউপিইউ সংযুক্তিকরণ একটি নতুন দিগন্তের সূচনা করছে বলেও তিনি জানান। এর ফলে প্রবাসী ভারতীয়দের জন্য তাৎক্ষণিক ও সাশ্রয়ী মানি ট্রান্সফার সম্ভব হবে এবং বিভিন্ন দেশের ডাক বিভাগগুলির জন্যও নতুন আয়ের উৎস তৈরি হবে।
মন্ত্রী বলেন, “ভারত কোনো প্রস্তাব নিয়ে নয়, অংশীদারিত্ব নিয়ে এসেছে। আমরা বিশ্বাস করি স্থিতিস্থাপকতা, আন্তঃক্রিয়াশীল সমাধান এবং আস্থার উপর ভিত্তি করে একটি যুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই বৈশ্বিক বাণিজ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে।”
ইউপিইউ-এর মহাপরিচালক মাসাহিকো মেটোকি ভারতের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স এবং পোস্টাল অপারেশনস কাউন্সিলে ভারতের সহ-সভাপতিত্ব, বিশ্বব্যাপী আর্থিক সংযুক্তিতে ভারতের ভূমিকাকে আরও জোরদার করেছে। তিনি ভারত সরকারের ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।



















