ভারত-আমেরিকা অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে দিল্লিতে আলোচনায় জয়শঙ্কর ও আইওয়ার গভর্নর

নয়াদিল্লি, ৮ সেপ্টেম্বর : ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর সোমবার দিল্লিতে আইওয়া রাজ্যের গভর্নর কিম রেনল্ডস-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং ভারত–আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। মন্ত্রী এক্স-এ এই বৈঠকের ছবি শেয়ার করে লেখেন, “ভারত–আমেরিকা অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও তার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হল।”

এই বৈঠক এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হল যখন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের উপর ৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক চাপিয়েছেন। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ জরিমানা হিসেবে ধরা হয়েছে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার কারণে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভারতের বিরুদ্ধে ইউক্রেন যুদ্ধ অর্থায়নের অভিযোগ এনেছেন।

এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সিথারামন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, ভারত রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করবে না। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “রাশিয়ার তেল হোক বা অন্য কিছু—আমরা সিদ্ধান্ত নেব আমাদের জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করে। হার, সরবরাহব্যবস্থা বা অন্য যে কোনও দিক থেকে যা আমাদের জন্য লাভজনক, সেটাই আমরা বিবেচনা করব। আর সেই অনুযায়ী আমরা রাশিয়া থেকে তেল কিনব।”

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, দেশের আমদানির খরচে অপরিশোধিত তেলের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি, এবং তাই এই বিষয়ে কৌশলগত সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।

এদিকে বুধবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, “ফেজ-২” এবং “ফেজ-৩” শুল্কের ঘোষণা এখনও বাকি, যা সেই দেশগুলোর উপর আরোপ করা হবে যারা রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখছে। তিনি বলেন, “ভারতের উপর এই শুল্ক আসলে রাশিয়ার বিরুদ্ধেই পদক্ষেপ, কারণ এর ফলে রাশিয়ার ক্ষতি হচ্ছে শত শত বিলিয়ন ডলার।”

তিনি আরও বলেন, “রাশিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি পদক্ষেপ না নিলেও, যারা রাশিয়াকে আর্থিকভাবে সাহায্য করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াই প্রকৃত কার্যকরী কৌশল।”

এই পরিস্থিতিতে জয়শঙ্কর–রেনল্ডস বৈঠক কূটনৈতিক ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার প্রসার, অন্যদিকে আমেরিকার চাপের মধ্যে ভারতের কৌশলগত অবস্থান—এই দুই বিষয় একসঙ্গে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। ভারত যে নিজের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, তা মন্ত্রীদের বক্তব্যে স্পষ্ট।