News Flash

  • Home
  • Uncategorized
  • বঞ্চনা ও দুর্নীতি নিয়ে রাজ্য সরকারকে কাঠগড়ায় তুলল রেগা কর্মচারী সমিতি
Image

বঞ্চনা ও দুর্নীতি নিয়ে রাজ্য সরকারকে কাঠগড়ায় তুলল রেগা কর্মচারী সমিতি

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৭ ডিসেম্বর৷৷ বঞ্চনা, সাথে দূর্নীতি৷ বামফ্রন্ট সরকারকে কাঠগড়ায় তুলল বামপন্থী সংগঠন

রেগা কর্মচারি সমন্বয় সমিতির রাজ্য সম্মেলন উপলক্ষ্যে আগরতলায় মিছিল৷ ছবি নিজস্ব৷
রেগা কর্মচারি সমন্বয় সমিতির রাজ্য সম্মেলন উপলক্ষ্যে আগরতলায় মিছিল৷ ছবি নিজস্ব৷

রেগা কর্মচারী সমন্বয় সমিতি৷ নিয়মিতকরণ থেকে শুরু করে সবেতন ছুটি এবং বদলীর ক্ষেত্রে সুযোগ সুবিধা সবকিছুতেই তাঁদের সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে রাজ্য সরকার, অভিযোগ করেন সংগঠনের সম্পাদক জয়দ্বীপ কর৷ সাথে বলেন, রাজ্য সরকারের ফরমান না মেনে আন্দোলনমুখী হতে চাইলে তাঁদের চাকুরীচ্যুত করা হবে বলে ভয়ভীতিও দেখানো হচ্ছে৷ শুধু তাই নয়, জিও ট্যাগিং পদ্ধতি শুরু হওয়াতে তাঁদের পকেট থেকে অর্থ খরচ করে কিনতে হচ্ছে মোবাইল৷ ফলে, কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা মোতাবেক রাজ্য সরকারের মোবাইলের খরচ বহন করার কথা থাকলেও জিআরএস’দের নিজেদের টাকায় মোবাইল ক্রয় করার ঘটনায় দূর্নীতি হচ্ছে বলেই অনুমান৷
শনিবার রেগা কর্মচারী সমন্বয় সমিতির সম্মেলনে সংগঠনের সম্পাদক জয়দ্বীপ কর বলেন, চুক্তিবদ্ধ কর্মচারী হওয়ায় তাঁদের প্রায় সময়ই রাজ্য সরকারের রক্তচক্ষু মোকাবিলা করতে হয়৷ তিনি স্পষ্ট বলেন, রেগা কর্মচারীদের নিয়মিতকরণের দাবি দীর্ঘদিনের৷ অথচ রাজ্য সরকার বলছে, যেহেতু রেগা কেন্দ্রীয় প্রকল্প, তাই তাঁদের নিয়মিত করা রাজ্যের এক্তিয়ারভুক্ত নয়৷ এদিন তিনি বলেন, এবিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের কাছে জানতে চাওয়া বলে তাঁদের স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া রেগা কর্মাচারীদের নিয়মিতকরণ রাজ্যের এক্তিয়ারভুক্ত৷ এছাড়াও নানাভাবে রেগা কর্মচারী বঞ্চিত হচ্ছেন বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন৷ তাঁর বক্তব্য, আর্থিক অনটনের কারণে হয়ত রাজ্য সরকারের পক্ষে রেগা কর্মচারীদের নিয়মিত করা সম্ভব হচ্ছে না৷ কিন্তু, যেখানে আর্থিক সুযোগ সুবিধা দেওয়ার প্রয়োজন নেই সেখানেও তাঁদের বঞ্চিত করা হচ্ছে৷ তিনি বলেন, প্রত্যেক সরকারী কর্মচারী সবেতন ছুটি পেয়ে থাকেন৷ কিন্তু, তাঁদেরকে সবেতন ছুটি দেওয়ার দাবি রাজ্য সরকার মানছে না৷ এদিকে, বদলীর ক্ষেত্রেও অন্যান্য সরকারী কর্মচারীদের তুলনায় রেগা কর্মচারীদের সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে রাজ্য সরকার৷ তিনি বলেন, কোন সরকারী কর্মাচারীকে বদলী করা হলে ১০ থেকে ১২ দিনের ছুটি দেওয়া হয়৷ কিন্তু রেগা কর্মাচারীদের ক্ষেত্রে বদলী হলে তিন দিনের মধ্যে কাজে যোগ না দিলে বেতন কেটে নেওয়া হচ্ছে৷ আর বঞ্চনার বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করলে রাজ্য সরকারের রক্তচক্ষুর মুখে পড়তে হচ্ছে৷ ক্ষোভের সুরে তিনি বলেন, আন্দোলনমুখী রেগা কর্মচারীদের চাকুরী বরখাস্ত করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে রাজ্য সরকার৷ ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন কারণ দর্শানোর নোটিশও জারি করেছে সরকার৷ তবে, রাজ্য সরকারের ভয়ভীতিকে রেগা কর্মাচরী সমন্বয় সমিতি তোয়াক্কা করেনা বলে এদিন সংগঠনের সম্পাদক হুংকার দেন৷ তাঁর সাফ কথা, রেগা কর্মচারীদের প্রতি রাজ্য সরকারের বৈষম্যমূলক আচরণ বরদাস্ত করা হবে না৷ কোন ভয়ভীতিকেই তোয়াক্কা করা হবে না এবং দাবী আদায়ে আগামী আন্দোলন আরো জোরদার করা হবে৷
এদিকে, ইএফএমএস পদ্ধতিতে রেগা প্রকল্পে মজুরী সরাসরি শ্রমিকদের একাউন্টে ঢুকছে, ফলে এক্ষেত্রে দূর্নীতির সুযোগ নেই৷ কিন্তু জিও ট্যাগিং পদ্ধতিতে রূপান্তরে জিআরএস’দের মোবাইল নিজেদেরকেই কিনতে হচ্ছে৷ এদিন সম্মেলনের মঞ্চে এনিয়ে বিষোদ্গার জাহির করেন সংগঠনের সম্পাদক জয়দ্বীপ কর৷ বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, কেন্দ্রের নয়া নির্দেশিকা অনুযায়ী রাজ্যেও শুরু হয়েছে জিও ট্যাগিং৷ কিন্তু এই নতুন পদ্ধতির ফলে ২৩০০ জিআরএস’কে নতুন মোবাইল কিনতে বলেছে রাজ্য সরকার৷ তিনি বলেন, জিও ট্যাগিংয়ে ব্যবহৃত মোবাইল কেনার দায়িত্ব রাজ্য সরকারের৷ অথচ তা না করে রাজ্য সরকার নোটিশ জারি করেছে কেন্দ্রের নির্দেশিকা অনুযায়ী সুনির্দিষ্টমানের মোবাইল জিআরএস’দেরই কিনতে হবে৷ আর তাতেই বড়সড় দূর্নীতির গন্ধ মিলছে৷
কেন্দ্রের নির্দেশিকায় স্পষ্ট রয়েছে, জিও ট্যাগিংয়ে ব্যবহৃত মোবাইল রাজ্যকে কিনতে হবে৷ তার জন্য সেট প্রতি এককালীন খরচ কেন্দ্র মিটিয়ে দেবে৷ কিন্তু মোবাইল চুরি হলে কিংবা নষ্ট হয়ে গেলে কেন্দ্র থেকে কোন ক্ষতিপূরণ মিলবে না৷ সেটা বহন করতে হবে রাজ্য সরকারকেই৷ শুধু তাই নয়, সিম এবং ইন্টারনেট খরচও রাজ্যকেই বহন করতে হবে৷ এদিন, সম্মেলনের মঞ্চে রেগা কর্মচারী সমন্বয় সমিতির সম্পাদক অভিযোগ করে বলেন, তাঁদের মোবাইল কিনে রসিদ রাজ্য সরকারের জমা দিলে প্রথমে সেই টাকা মিটিয়ে দেওয়া হচ্ছে৷ কিন্তু পরবর্তী সময়ে মাসের বেতন থেকে মোবাইল ক্রয়ের টাকা কেটে নিচ্ছে রাজ্য সরকার৷ এদিকে, সম্মেলনের মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী নরেশ জমাতিয়া দাবি করেন, রেগা প্রকল্পের ৬০ শতাংশ টাকা শ্রমিকদের মজুরী বাবদ খরচ হচ্ছে৷ যা এখন ইএফএমএস পদ্ধতিতে সরাসরি রেগা শ্রমিকদের একাউন্টে পৌছে যাচ্ছে৷ ফলে, দূর্নীতি কোনভাবেই সম্ভব নয়৷ কিন্তু, বাকি ৪০ শতাংশ প্রাপ্ত অর্থের দূর্নীতি হচ্ছে না, সেই প্রশ্ণ উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না৷ অন্তত, জিও ট্যাগিংয়ের নামে দূর্নীতি যে হচ্ছেই, তা এখন অনেকটাই স্পষ্ট৷

Releated Posts

কর্ণাটক মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণে কেউ ইস্তফা দেননি, দলে কোনও অসন্তোষ নেই: কংগ্রেস সভাপতি বি. কে. হরিপ্রসাদ

বেঙ্গালুরু, ৪ আগস্ট (আইএএনএস): কর্ণাটকে সাম্প্রতিক মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণকে ঘিরে কংগ্রেসের অন্দরে ব্যাপক অসন্তোষের জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে কর্ণাটক প্রদেশ…

ByByNews Desk Aug 4, 2026

সমঝোতার সম্ভাবনায় আপাতত ইরানে হামলা স্থগিত, দাবি ট্রাম্পের; হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার কথাও উল্লেখ

ওয়াশিংটন, ২ আগস্ট (আইএএনএস): যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্র আপাতত…

ByByNews Desk Aug 2, 2026

সূর্য ঘরে এখন ১৫ মেগাওয়াটের শক্তি, বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় নীরব বিপ্লব রাজ্যে

আগরতলা, ২৮ জুলাই:একটি বাড়ির ছাদে কয়েকটি সোলার প্যানেল। সেখান থেকেই তৈরি হচ্ছে বিদ্যুৎ। সেই বিদ্যুৎ যাচ্ছে বাড়ির আলো,…

ByByReshmi Debnath Jul 28, 2026

অক্সিলিয়াম গার্লস স্কুলে ‘আউক্সি ইগনিট এনোএল এক্সিবিশন ২০২৬’, ছাত্রীদের সৃজনশীলতা ও প্রতিভার প্রকাশ

আগরতলা, ২৫ জুলাই: ছাত্রীদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের গুণাবলী বিকাশের লক্ষ্যে অক্সিলিয়াম গার্লস স্কুল, আগরতলার উদ্যোগে বিদ্যালয়…

ByByNews Desk Jul 25, 2026
Scroll to Top