News Flash

  • Home
  • উত্তর-পূর্বাঞ্চল
  • কোসুটোলিতে নবগঠিত পুলিশ ব্যাটালিয়ন অনুপ্রবেশ রোধে কার্যকর ভূমিকা নেবে: মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা
Image

কোসুটোলিতে নবগঠিত পুলিশ ব্যাটালিয়ন অনুপ্রবেশ রোধে কার্যকর ভূমিকা নেবে: মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা

গৌহাটি, ১৪ মে: আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বুধবার কোসুটোলি পরিদর্শনের সময় ঘোষণা করেন, কোসুটোলিতে গঠিত হতে চলা আসাম পুলিশের ১০ম ব্যাটালিয়ন সংরক্ষিত উপজাতীয় অঞ্চলে অবৈধ দখলদারিত্ব রুখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

তিনি বলেন, “এই ব্যাটালিয়ন এলাকাটিকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করবে। উপজাতীয় বেল্টে বারবার অবৈধ বসতি স্থাপনের যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা রোধে এটি কার্যকর হবে।”

মুখ্যমন্ত্রী জানান, ব্যাটালিয়ন স্থাপনের কাজ আগামী ছয় মাসের মধ্যেই শুরু হবে এবং সম্পূর্ণ প্রকল্পটি তিন বছরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। প্রায় ১০০ বিঘা জমিতে এই ব্যাটালিয়ন গড়ে তোলা হবে বলে তিনি জানান।

অতিরিক্ত জমির ব্যবহারের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সরকার সেখানে মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য উন্নয়নমূলক প্রকল্প স্থাপনের পরিকল্পনা করছে। “যদি কোনো উপজাতীয় ভূমিহীন ব্যক্তি থেকে থাকে, তাহলে তাদের পাট্টা দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে। যেহেতু এটি সংরক্ষিত উপজাতীয় এলাকা, তাই এর বাইরে আমরা কিছু করতে পারি না। উচ্ছেদের পর যদি জমি ব্যবহৃত না হয়, তাহলে পুনরায় লোকজন এসে বসবাস শুরু করে,” মন্তব্য করেন শর্মা।

তিনি স্বীকার করেন, প্রায় ১,০০০ বিঘা জমি অনুপ্রবেশকারীদের হাত থেকে মুক্ত করা হয়েছে, তবে কিছু এলাকায় উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে বিতর্ক রয়েছে। “আমি অ্যাডভোকেট জেনারেলকে বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছি,” বলেন মুখ্যমন্ত্রী।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে উচ্ছেদ অভিযানে দুইজনের মৃত্যুর পর আদালতে জমা পড়া পিটিশনের ভিত্তিতে এই স্থগিতাদেশ জারি হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এই পুনরাবৃত্ত অনুপ্রবেশের পেছনে ভূমি দালালদের হাত রয়েছে। “লোকজন নিজেরা চলে যেতে চায়, কিন্তু দালালরাই তাদের ফিরিয়ে নিয়ে আসে। এখন থেকে আমরা এদের বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইন (NSA)-এর আওতায় কড়া ব্যবস্থা নেব,” বলেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, মূলত যেদিন এই অঞ্চল উপজাতীয় বেল্ট হিসেবে ঘোষিত হয়, সেদিনের পরে যারা এখানে এসে বসতি গড়েছে, তারাই সমস্যার মূল। “ঘোষণার আগে যারা এখানে ছিল, তারা থাকতে পারবে। কিন্তু নতুনভাবে আসা কেউই বসবাস করতে পারবে না,” বলেন তিনি।

দক্ষিণ কামরূপ উপজাতীয় বেল্ট—যার মধ্যে কোসুটোলি, সোনাপুর পাথার ও গুমরিয়া পাথার অন্তর্ভুক্ত—আসাম ভূমি ও রাজস্ব নিয়মাবলী, ১৮৮৬-এর অধ্যায় ১০-এর আওতায় সংরক্ষিত। এই এলাকাগুলি শুধুমাত্র স্বীকৃত উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর জন্য নির্ধারিত, যেখানে অ-উপজাতীয়দের বসতি নিষিদ্ধ।

সম্প্রতি উচ্ছেদ হওয়া এলাকাগুলিতে আবারও বসতি স্থাপনের চেষ্টা প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। এর ফলে একাধিক দফা প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ করা হয়েছে।

Releated Posts

‘অসমের মানুষ শান্তিতে ঘুমান, কারণ ২৪ ঘণ্টা পাহারায় অসম পুলিশ’: হিমন্ত বিশ্ব শর্মা

গুয়াহাটি, ১ অক্টোবর (আইএএনএস): অসম পুলিশ দিবস উপলক্ষে রাজ্যের পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁদের ২৪ ঘণ্টার…

ByByNews Desk Oct 1, 2026

উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কাজের জন্য আগে শান্তি প্রয়োজন: মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী

ইম্ফল, ৩০ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): মণিপুরে উন্নয়ন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে সবার আগে শান্তি ও স্থিতিশীলতা…

ByByNews Desk Sep 30, 2026

সীমান্ত সমন্বয় জোরদারে শিলংয়ে সেনা ও বিএসএফের কৌশলগত বৈঠক

শিলং, ৩০ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কার্যকর ব্যবস্থাপনা এবং অপারেশনাল সমন্বয় আরও জোরদার করতে শিলংয়ে সেনাবাহিনী ও সীমান্তরক্ষী…

ByByNews Desk Sep 30, 2026

হিজাম ইরাবতের সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের আদর্শ স্মরণ মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রীর

ইম্ফল, ৩০ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): মণিপুরের ৩৬টি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের স্বপ্ন দেখেছিলেন জননেতা হিজাম ইরাবত। তাঁর…

ByByNews Desk Sep 30, 2026
Scroll to Top