কলকাতা, ৩০ আগস্ট (হি.স.): “মিডিয়ার মুখ কে চেপে রেখেছে? প্রেস ফ্রিডম না থাকলে স্বৈরাচারী সরকারের সঙ্গে এই সরকারের পার্থক্য কোথায়? আমার এক বন্ধু সেদিন বললো, আওয়ামী লীগ যে অন্যায় করেছে, সেই অন্যায় তারা এখন ফেরত পাচ্ছে।”
শুক্রবার সামাজিক মাধ্যমে এই প্রশ্ন তুললেন নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। তিনি লিখেছেন, “স্বৈরাচারী সরকারের শাসনামলে প্রেস ফ্রিডম ছিল না, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা বলতে কিছু ছিল না। সরকারের প্রশংসা করে কলাম লেখা হতো। প্রতিদিন সরকারের গুণগান গাওয়া হতো। সরকারের সমালোচনা করলে সরকার সমস্যা করতো।
স্বৈরাচারী সরকারকে হঠানোর পর এখন প্রেস ফ্রিডম আছে কি? দিনে দুপুরে কে কাকে খুন করে ফেলে রাখছে, মিডিয়া কেন এ নিয়ে কথা বলছে না? কী কারণে কোন শিক্ষককে পদত্যাগ করতে বাধ্য করছে ছাত্ররা, তাও তো দেখছি না মিডিয়ায় আলোচনা হতে। কারা খেলাফতের মিছিল করছে, কারা মাজার ভাংছে, কারা কারাগার থেকে সন্ত্রাসীদের মুক্ত করে নিয়ে আসছে, কিন্তু পুলিশ কিছু বলছে না, মিডিয়া কেন এ নিয়ে কিছু বলছে না?
–দাঁতের বদলে দাঁত? চোখের বদলে চোখ? –হ্যাঁ, সেটাই। আমি প্রশ্ন করলাম, এইসব প্রতিহিংসা, এইসব মারামারি খুনোখুনি, এইসব অরাজকতা, যা ইচ্ছে তাই বন্ধ হবে কবে? বন্ধুটি বললো, সময় লাগবে। –কত সময়? এক মাস? এক বছর? পাঁচ বছর? দশ বছর? কিছু একটা সময় তো দেবে। বন্ধুটি বললো, এক্সাক্টলি কবে বলা যাবে না, তবে সময় ডেফিনিটলি লাগবে।
নৈরাজ্য, নির্যাতন, নির্মমতা, নৃশংসতা আমাকে যতটা বিচলিত করে, লক্ষ করলাম বাংলাদেশে বাস করা অনেককে ততটা বিচলিত করে না। প্রতিহিংসার রাজনীতির মধ্যে বাস করতে করতে তারা হয়তো অনেকটা সিজনড হয়ে গেছে।”

