আগরতলা, ১৫ মে : আগর গাছ বিক্রিকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার কান্ড ঘটেছে। ওই ঘটনাকে ঘিরে উত্তর ত্রিপুরা জেলার কদমতলা থানাধীন বড়গোল গ্রামের জুলাই বাসা এলাকা উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এনিয়ে কদমতলা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে,বেশ কয়েক বছর পূর্বে বড়গোল গ্রাম পঞ্চায়েতের পাঁচ নং ওয়ার্ডের জুলাই বাসা এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হক সে প্রতিবেশী আলতাব হোসেনের কাছে দশটি আগর গাছ বিক্রি করেন। পরবর্তীতে বিক্রি করা আগর গাছ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মনোমালিন্যতা দেখা দেয়। ক্রেতা আলতাব হোসেনের দাবি করেন সে তিরানব্বইটি আগর গাছ ক্রয় করেছেন । এনিয়ে মামলা পাল্টা মামলা রুজু হয় কদমতলা থানায়। একাধিকবার গ্রাম্য সালিশি সভার মাধ্যমে ঘটনাটি মিমাংসা করার চেষ্টা করা হলেও তা শেষ হয়নি। পরবর্তীতে কদমতলা থানার পুলিশের সহযোগিতায় থানাতেই জুলাইবাসা এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের নিয়ে উভয় পক্ষের মিমাংসা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
ওই দিনের বৈঠকে ক্রেতা আলতাবকে বারোটি আগর গাছ দিয়ে দেবার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাতে ক্রেতা প্রথমে রাজি হলেও পরে সে রাজি হননি। অবশেষে রবিবার সকাল আনুমানিক নয়টা নাগাদ দলবল নিয়ে আলতাব গৃহস্থ আব্দুল হকের বাড়িতে প্রবেশ করে বাড়ির লোকজনদের ঘরে আটকে রেখে অবাধে আগর বাগান থেকে গাছ কাটতে শুরু করেন বলে অভিযোগ।
এদিকে গৃহস্থের স্ত্রী ফাতিমা বেগম জানিয়েছেন,বন্ধ ঘর থেকে স্বামী স্ত্রী কোনমতে পেছনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে কদমতলা থানার শরণাপন্ন হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছে। ততক্ষণে কেটে নেওয়া আগর গাছের একটা অংশ তারা নিয়ে যায়। পরে পুলিশ বাকি অংশ আগর গাছ গুলি থানায় নিয়ে যায়। অভিযোগ তাদের বাড়ি থেকে মোট পঞ্চান্নটি আগর গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। যার মূল্য কুড়ি লক্ষ টাকা বলে দাবি ফাতিমা বেগমের দাবি। এবিষয়ে গৃহস্থ আব্দুল হক কদমতলা থানা ,ধর্মনগর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক,জেলা পুলিশ সুপারের কাছে আলতাব হোসেন,আব্দুল মুমিন,রফিক উদ্দিন ও সেলিম উদ্দিন নামের চারজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। সাথে লিখিত আকারে কদমতলা বন দপ্তরকেও ঘটনাটি অবগত করেছেন।
অপরদিকে,স্হানীয় এলাকাবাসীরা জানিয়েছেন,পুলিশ তদন্ত করে গোটা ঘটনার নিষ্পত্তি করুক। যদি কেটে নেওয়া আগর গাছ গুলি ক্রেতা আলতাব হোসেনের ন্যায্য পাওনা হয় তাহলে তাকে দেওয়া হোক ,অন্যথায় গাছের মালিককে হস্তান্তর করুক পুলিশ।
পাশাপাশি কদমতলা থানার সাব ইন্সপেক্টর তথা এই মামলার তদন্তকারী অফিসার সঞ্জিব সরকার জানিয়েছেন,লিখিত অভিযোগ মূলে স্হানীয় থানায় ৩১ নম্বরের ভারতীয় দন্ডবিধির ৪৪৮/৩২৫/৩৫৪/৪২৭/৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি। পুলিশ গোটা ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে।
এদিকে এবিষয়ে আগর গাছ ক্রেতা আলতাব হোসেন জানিয়েছেন, তাদের উপস্থিতিে কয়েক ধাপে আগর গাছ বিক্রি করেছেন অভিযোগকারী আব্দুল হকের পরিবার।ন্যায্য মুল্য গাছ বিক্রি করে এখন তারা মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছেন।এমন ঘটনা আরো অন্যান্যদের সাথেও করেছেন তারা। তাই তাঁরাও চাইছেন পুলিশ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান হোক।

