আমরা অসমবাসী বাঙালি, বঙ্গবাসী অসমিয়া নয়, বলেছেন সাধন

শিলচর (অসম), ৫ জুন (হি.স.) : ”আমরা অসমবাসী বাঙালি, বঙ্গবাসী অসমিয়া নয়। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মার সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বলেছেন ”আমরা বাঙালি”র অসম রাজ্য কমিটির সচিব সাধন পুরকায়স্থ।

এক প্রেস বিবৃতিতে সাধন পুরকায়স্থ বলেন, ছাত্র যুব ফেডারেশনের অধিবেশনে বাঙালি জাতিসত্তার নতুন যে সংজ্ঞা মুখ্যমন্ত্রী দিয়েছেন তাতে মনে হচ্ছে, তিনি গেইট, হার্টনের মতো নৃতত্ত্ববিদের উপরে ওঠে গেছেন। জাতির সংজ্ঞা নৃতত্ত্ববিদরা বিভিন্ন সময় মস্তিষ্কের গঠন ইত্যাদির ওপর ভিত্তি করে অভিমত দিয়েছেন।অসমে নতুন করে বাঙালি জাতিসত্তাকে বিকৃত করার প্রক্রিয়া আমরা বাঙালির অসম রাজ্য কমিটি সমর্থন করতে পারছে না। সাধন বলেন, তিনি যে পদ্ধতিতে বাঙালির সংজ্ঞা নিরূপন করেছেন তা ইতিহাস সমর্থন করে না।রাজনৈতিক কারণে কোনও বিশেষ ভাষাভাষীর প্রাধান্য দেখিয়ে রাজনীতি করা যায় কিন্তু মানুষের মন জয় করা যায় না। যে তথ্য মুখ্যমন্ত্রী খাঁড়া করেছেন সে ক্ষেত্রে অসমিয়া যাঁরা ভারতবর্ষের বিভিন্ন রাজ্যে বসবাস করেন তাঁরা নিজেদের পরিচয় যেমন বিকৃত করতে পারবেন না, বাঙালিরাও চাপের কাছে নতি স্বীকার করে কেউ কেউ নিজেদের স্বার্থে ধান্দাবাজের আশ্রয় নিতে পারে, কিন্তু আসল সত্য এতে বদলাবে না।

সাধন পুরকায়স্থের বক্তব্য, ”অসমিয়া, বড়ো, কারবি, ডিমাসা, রাভা, সবার নিজেদের জাতীয় পরিচয় আছে। অসম যে একটি বহুভাষিক রাজ্য এই সত্যতা অনেকেই মেনে নিতে পারছেন না।একটি ভাষা একটি সংস্কৃতিকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। অসমিয়া নিজস্ব ভাষা সংস্কৃতি-সম্পন্ন একটি জাতি। এই জাতীয় পরিচয় তাকে ভারতবর্ষে একটা বিশেষ স্থান করে দিয়েছ। আমরা চাই এই জাতিসত্তার আরও শ্রীবৃদ্ধি হোক। তবে তিনি বাঙালির সঙ্গে যে সম্পর্কের কথা তুলে ধরেছেন তা নিশ্চয়ই এক সমন্বয়ের বার্তা বহন করেছে। আমরা এই অভিব্যক্তির সম্মান করছি। তাঁর এই দৃষ্টিভঙ্গি শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য না হয়ে সমস্ত ক্ষেত্রে যাতে প্রতিফলিত হয় সেই আশা সেই কামনা করছি।”

পুরকায়স্থের আরও বক্তব্য, ”চাকরির ক্ষেত্রে, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আমরা বাঙালিরা বৈষম্যের শিকার। পদে পদে অসমের সরকারি ভাষা আইনকে লঙ্ঘন করা হচ্ছে। আমরা আশা করি সরকার আমাদের সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার সুনিশ্চিত করবে। সর্বোপরি আমরা অসমবাসী বাঙালি, বঙ্গবাসী অসমীয়া নয়।সুতরাং অসমিয়া বুদ্ধিজীবীদেরও নিজস্ব জাতিসত্তা বিকৃত করার চেষ্টার বিরোধিতা করা উচিত। কেননা, অসমিয়া একটি ভাষা-সংস্কৃতি সম্পন্ন জাতি।” ”আমরা বাঙালি”র অসম রাজ্য কমিটির সচিব সাধন পুরকায়স্থ বলেন, ”অসমের সরকারি ভাষা অসমিয়া। অসমিয়া ভাষার নিজস্ব অস্তিত্বের কোনও সংকট আছে বলে আমরা মনে করি না। তাই বাঙালিদের যথাযথ সম্মান দিয়ে, বাংলাকে অসমের দ্বিতীয় সরকারি ভাষা হিসাবে মেনে নিলে, অসমিয়া ভাষা সংস্কৃতি আরও সমৃদ্ধ হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *