আগরতলা, ১০ এপ্রিল (হি.স.): ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে ত্রিপুরা জুড়ে সন্ত্রাস অব্যাহত রয়েছে। সোমবার ত্রিপুরার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক(ডাঃ) মানিক সাহার দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক তথা বিধায়ক জিতেন চৌধুরী ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা পলিটব্যুরো সদস্য মানিক সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাঁরা দাবি জানিয়েছেন, প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনে নির্দেশ দিন।
আজ সাংবাদিক সম্মেলনে মানিক সরকার বলেন, বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলকে কেন্দ্র করে ত্রিপুরায় সংগঠিত ২০১৬টি সন্ত্রাসের ঘটনার তথ্য মুখমন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ফলাফল ঘোষণার আগে থেকে এখনও পর্যন্ত ৫ জনকে খুন করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে চার জন রাজনৈতিক সন্ত্রাসের কারণে খুন হয়েছেন। তাই মুখ্যমন্ত্রী কাছে আবেদন জানিয়েছি, অবিলম্বে সন্ত্রাস বন্ধে প্রসাশনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনে নির্দেশ দিন, বলেন মানিক।
তাঁর দাবি, ফলাফল ঘোষণার পর অবিজেপি যুব অংশ সবচাইতে বেশি আক্রমণের শিকার হয়েছেন। শুধু তাই নয়, মানুষের কর্ম সংস্থানের উপর আক্রমণ করেছে শাসক দলের মদতপুষ্ট দূর্বৃত্তরা। তাঁর অভিযোগ, বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর সাব্রুম থেকে চুরাইবাড়ি সর্বত্রই সন্ত্রাসের বাতাবরণ কায়েম রয়েছে।
উল্লেখ্য, বিরোধী কর্মীর রাবার বাগানে সহ ঘর বাড়ি আগুনে পুড়িয়ে ফেলা, বহু মানুষের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায়, কর্মসংস্থানে বাধা, দোকান পাট বন্ধ করা সহ প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে সন্ত্রাস, এমনই অভিযোগ সিপিএমের।
তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন রেখেছেন, গত ৫ বছরে ত্রিপুরায় যে রাজনৈতিক সন্ত্রাস সংঘটিত হয়েছে তার পুনরাবৃত্তি না ঘটে তার জন্য কার্যকরী ভূমিকা নেওয়া হোক। সাথে তাঁর আরো আবেদন, সন্ত্রাসে যারা সর্বশান্ত হয়ে গেছেন প্রসাশনের পক্ষ থেকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া হোক। মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের আশ্বাস দিয়েছেন, সমস্ত বিষয় বিবেচনা করবেন।
ত্রিপুরায় সন্ত্রাসের জন্য খুবই সামান্য ভোটের ব্যবধানে বিজেপির ক্ষমতা দখলকে দায়ী করছেন তিনি। তাঁর দাবি, বিজেপির প্রত্যাশা ছিল ২০১৮ বিধানসভা নির্বাচন থেকেও বেশি আসন পেয়ে জয়ী হবে। কারণ, বর্তমানে কেন্দ্রে ও রাজ্যে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। কিন্তু, ফলাফল ঘোষণার পর দেখা গেছে, শাসক দলের প্রচুর ভোট কমে গেছে। মাত্র ৩৯% ভোট পেয়ে সরকার গঠন করেছে বিজেপি। তাই, তাঁরা লাগাতর সন্ত্রাস জারি রেখেছে, তোপ দাগেন তিনি।

