হাওড়া, ৪ এপ্রিল (হি. স.) : সোমবার তমলুকের পর মঙ্গলবার বাগনান। ২০১৭-র গ্রুপ ডি চাকরিপ্রার্থীদের লংমার্চ কর্মসূচি ঘিরে মঙ্গলবারও উত্তেজনা। এবার হাওড়ার বাগনানে চাকরিপ্রার্থীদের মিছিল আটকাল পুলিশ। আটক করা হল দুজনকে। যদিও আন্দোলনকারী চাকরিপ্রার্থীরা তাতেও পিছু হঠতে নারাজ। পরে বহু কাঠখড় পুড়িয়ে তাদের বাগে আনতে হয়।
আন্দোলনকারীদের ধাক্কা দেয় পুলিশের। শুরু হয় বচসা, বিক্ষোভ, ধরপাকড়। গ্রুপ ডি চাকরিপ্রার্থীদের লংমার্চ কর্মসূচি ঘিরে ফের উত্তেজনা ছড়ায়। ফের পুলিশি বাধার মুখে পড়ল চাকরিপ্রার্থীদের মিছিল। আন্দোলনকারী গ্রুপ ডি চাকরিপ্রার্থীদের বক্তব্য, পুলিশের যে অত্যাচারে এদিনেও বাধার সামনে পড়ছি। হাইকোর্টের অর্ডার নিয়ে ঘুরছি। তা সত্ত্বেও পুলিশ কেন বাধা দিচ্ছে বুঝতে পারছি না।
সোমবার, মুখ্যমন্ত্রীর পূর্ব মেদিনীপুর সফর শুরুর দিনই, গ্রুপ ডি চাকরিপ্রার্থীদের বিক্ষোভে তেতে উঠেছিল তমলুকের হোগলা। মঙ্গলবারও একই দৃশ্য দেখা গেল হাওড়ার বাগনানে।
স্কুলে স্বচ্ছ নিয়োগের দাবিতে ২০০ দিনের বেশি ধর্মতলায় মাতঙ্গিনী মূর্তির পাদদেশে ধর্না-অবস্থান চালিয়ে যাচ্ছেন এসএসসি-র গ্রুপ ডি চাকরিপ্রার্থীরা। এদিন হাওড়ার বাগনানে পথে নামেন ২০১৭ সালের গ্রুপ ডি-র অপেক্ষাতালিকায় থাকা চাকরিপ্রার্থীরা। প্রথমে খাদিনান ব্রিজের কাছে তাঁদের মিছিল আটকায় পুলিশ। প্রতিবাদে বাগনান-আমতা রোডে বিক্ষোভ দেখান চাকরিপ্রার্থীরা। এরপর বাঙালপুর মো়ড়ের কাছে ফের মিছিল আটকায় পুলিশ। ২ জন আন্দোলনকারীকে আটক করে বাগনান থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তাতে আরও তেতে ওঠে পরিস্থিতি।
৩ দিনের লংমার্চ কর্মসূচি শেষে ধর্মতলায় মাতঙ্গিনী মূর্তির পাদদেশে জমায়েতের ডাক দিয়েছে ঐক্যমঞ্চর ২০১৭ গ্রুপ ডি-র অপেক্ষমানরা। যেখানে প্রথম দু’দিনই পুলিশের বাধার মুখে পড়তে হয় আন্দোলনকারীদের। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির মাঝেই তাঁদের তরফে স্লোগান ওঠে, নিয়োগ নিয়োগ নিয়োগ চাই। মুখ্যমন্ত্রীর দফতর, আমরা বঞ্চিত কেন জবাব জবাব জবাব চাই।
সঙ্গে পুলিশ কয়েকজনকে আটক করার সময় কার্যত ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে তাঁদের বার্তা, মাতঙ্গিনী হাজরা যেমন বলেছিলেন, আমি আর এখান থেকে পিছবনি, আমরাও ঠিক তাই বলছি, আমরা আর এখান থেকে পিছবনি। আমরা সামনে এগোব। তাতে পুলিশের যদি মনে হয়, গুলি করে মেরে দেবে, মেরে দিক। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির সময় একজন চাকরিপ্রার্থী অসুস্থও হয়ে পড়েন। পুলিশ টেনে হিঁচড়ে তাঁদের গাড়িতে তোলে।



















