বাজারিছড়া (অসম), ৯ জানুয়ারি (হি.স.) : বজরং দলের জনৈক কার্যকর্তা-খুনের ঘটনায় করিমগঞ্জ জেলার অন্তর্গত পাথারকান্দি বিধানসভা এলাকার বাজারিছড়া থানাধীন লোয়াইরপোয়ার পরিস্থিতি থমথমে। আজ সোমবার বাজারিছড়ায় দফায় দফায় বৈঠক করছেন রাজ্য পুলিশের দক্ষিণ রেঞ্জের ডিআইজি কঙ্কন শইকিয়া, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, করিমগঞ্জের সদর ডিএসপি গীতার্থ দেবশর্মা, জেলার প্রশাসনিক ম্যাজিস্ট্রেট।
রবিবার রাতে বাজারিছড়া থানাধীন লোয়াইরপোয়া মোটর স্ট্যান্ডে জনৈক মধু কৈরির একমাত্র ছেলে শম্ভু কৈরি (১৬)-কে মাছ কাটার দা দিয়ে কুপিয়ে খুন করেছে জনৈক মনাই মিয়াঁর ছেলে দশম শ্রেণির ছাত্র এনামুল হক ওরফে সেলিম (১৬)। এরা দুজনেই একই এলাকার বাসিন্দা। ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা ঘাতকের বসতবাড়ি সহ স্থানীয় প্রায় ১২টি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর করেন। তবে স্থানীয় পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মাঠে নেমে ঘাতককে গ্রেফতারের আশ্বাস দেওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে।
রাতেই করিমগঞ্জ সদর ডিএসপি গীতার্থ দেবশর্মা লোয়াইরপোয়ায় এসে গোটা পরিস্থিতির সরেজমিনে খতিয়ে দেখে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযুক্তকে শীঘ্র গ্রেফতারের আশ্বাস দিয়ে উত্তেজিত জনতাকে সংযত থাকার অনুরোধ জানান। তবে তাঁর আশ্বাসের কয়েকঘণ্টার মধ্যেই গতকাল রাতেই খুনি এনামুলকে পুলিশ আটক করে গোপন স্থানে নিজেদের হেফাজতে রেখেছে বলে জানা গেছে।
এদিকে আজ সোমবার দিনভর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ডিআইজি, প্রশাসনিক ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দফায় দফায় বৈঠক করছেন। তাঁরা স্থানীয় বজরং দলের কার্যকর্তাদের সংযত থাকার অনুরোধ জানান।
আজ দুপুরের দিকে করিমগঞ্জ থেকে শম্ভু কৈরির মৃতদেহ ময়না তদন্তের পর বাড়িতে পৌঁছলে ক্ষোভের পারদ ফের চড়ে যায়। ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় জনতা। এদিকে স্থানীয় জনতা এবং বজরং দলের কার্যকর্তারা এক বিক্ষোভ-প্রতিবাদী মিছিল সংগঠিত করার চেষ্টা করলে তা ভেস্তে দেয় প্রশাসন। শেষে লাগোয়া শ্মশানঘাটে মৃতদেহ সৎকার করা হয়।
অন্যদিকে স্থানীয় জনতা এবং বিভিন্ন সংগঠন প্রশাসনের কাছে মৃতের পরিবারকে সরকারি সাহায্য বাবদ ৫০ লক্ষ টাকা ও তার পরিবারের একজনকে সরকারি চাকরি প্রদানের দাবি জানিয়েছে।
জানা গেছে, মাস-কয়েক আগে কোনও এক বিষয় নিয়ে একই এলাকার দুই কিশোরের মধ্যে সামান্য্ ঝগড়া হয়। কেউ কেউ বলছেন, খেলাধুলা নিয়ে বচসায় লিপ্ত হয়েছিল শম্ভু কৈরি ও এনামুল হকের মধ্যে। আবার একাংশের কথায়, তাদের মধ্যে নাকি ছাগল নিয়ে ঝগড়া হয়েছিল। আরেক মহলের বক্তব্য, কিছু টাকার লেনদেন নিয়ে ঝগড়া হয়েছিল দুই নাবালকের মধ্য। তাই তাদের মধ্যে সংঘটিত ঘটনার আসল রহস্য এখনও স্পষ্ট নয়।
রবিবার রাত সাড়ে সাতটা নাগাদ হাইলাকান্দি থেকে বজরং দলের তিন দিবসীয় বর্গ (শিবির) শেষে সহপাঠীদের সাথে শম্ভু কৈরি লোয়াইরপোয়ায় পৌঁছে। বাসস্ট্যান্ডে নেমে বাড়ির উদ্দেশ্যে যাওয়ার জন্য রওয়ানা হয় শম্ভু। তখন তাকে হাতের কাছে পেয়ে ঘর থেকে মাছ কাটার ধারালো দা নিয়ে আসে সে। দা দিয়ে পেছনের দিক থেকে শম্ভুর ঘাড় ও মাথায় তিনটি কোপ বসায় এনামুল হক ওরফে সেলিম।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা রক্তাক্ত শম্ভুকে রাস্তা থেকে তুলে মাকুন্দা খ্রিস্টিয়ান লেপ্রসি অ্যান্ড জেনারেল হসপিটালে নিয়ে যান। কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনার খবর দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। গতকাল রাত থেকে আজ গোটা মোটর স্ট্যান্ড এলাকার দোকানপাট বন্ধ। রাস্তায় নেই তেমন যানবাহন। মোদ্দাকথায় পরিস্থিতি থমথমে। গোটা এলাকায় পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী টহল দিচ্ছে।

