News Flash

  • Home
  • ত্রিপুরা
  • গ্রামে গ্রামে ঘুরে আইসক্রিম বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন দৃষ্টিহীন মনতাই দেববর্মা
Image

গ্রামে গ্রামে ঘুরে আইসক্রিম বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন দৃষ্টিহীন মনতাই দেববর্মা

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৮ আগস্ট৷৷  ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস৷ মানুষ ভাগ্যকেই সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করে৷ ভাগ্যের কারণে মানুষ  তার জীবনে অনেক কিছুই  হারাতে হয় এবং  ভাগ্যের কারণেই মানুষ অনেক কিছু পেয়ে থাকে৷ মানুষের জীবনে ভাগ্যের চাকা যখন উল্টো  চলতে থাকে তাহলে  জীবনে কোন কিছুই করার আর উপায় থাকে না৷ ঠিক এমনই এক উপজাতি ব্যক্তি৷  পেটের তাগিদে  অন্য একজনের সাহায্য নিয়ে  বিভিন্ন গ্রামের রাস্তায় রাস্তায়  ঘুরে  আইসক্রিম বিক্রি করে  সংসার চালাতে হচ্ছে৷ কিন্তু তারপরেও কারোর কাছে  হাত পেতে ভিক্ষা চাইতে  যাননি৷ ৫৫ বছর বয়সী ওই উপজাতি অন্ধ ব্যক্তিটির নাম মনতাই দেববর্মা৷ পিতা-মৃত সূর্যকুমার দেববর্মা৷ উনার বাড়ি বিশালগড় মহকুমার  হরিশ নগর গ্রাম পঞ্চায়েতের  ৪নং ওয়ার্ডে৷ উনার সংসারের   উনার মা,  স্ত্রী এবং ছোট ছোট দুটি সন্তান রয়েছে৷ সংসারে মনতাই দেববর্মা ছাড়া  উপার্জন করার মত আর কেউ নেই৷ তাই তিনি পরিবারের মুখে দুমুঠো ভাত তুলে দেওয়ার জন্য  বিভিন্ন গ্রামে  গ্রামে  ঘুরে আইসক্রিম বিক্রি  করছেন৷ যদিও তিনি অন্ধ হওয়ার কারণে  সরকার থেকে  প্রতি মাসে এক হাজার টাকা করে সামাজিক ভাতা পাচ্ছেন ৷ কিন্তু তা দিয়ে ওনার সংসার  কোনমতেই চলছে না৷ যার ফলে  অন্ধ হলেও আইসক্রিম বিক্রি  করছেন৷ আইসক্রিম বিক্রি করে যা টাকা রোজগার হয়  তা দিয়েই তিনি কোন রকম ভাবে  পরিবার নিয়ে  বেঁচে আছেন৷ তিনি জানিয়েছেন, গত ত্রিশ বছর আগে টাইফয়েট  হওয়ার কারণে  উনার দুই চোখের দৃষ্টিশক্তি চলে গেছে৷ কিন্তু চিকিৎসকরা বলেছিলেন  বহিঃরাজ্যের কোন ভালো হাসপাতালে চিকিৎসা করলে  হয়তো উনার দুই চোখের দৃষ্টিশক্তি আবার ফিরে পেতে পারে৷ কিন্তু মনতাই দেববর্মার পরিবারে নুন আনতে পান্তা ফুরায়  এর মত অবস্থা৷ এই অবস্থায়  এত টাকা রোজগার করতে পারেননি৷ যার ফলে  বহিঃরাজ্যে গিয়ে কোনো ভালো হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে পারেননি৷ উনার বক্তব্য উনাকে কে দেবে এত টাকা৷  আর কোথায় পাবেন এত টাকা? যার দরুন তিনি আজ ৩০ বছর ধরে  দৃষ্টিশক্তিহীন অবস্থায় রয়েছেন৷ উনার খুব ইচ্ছে ছিল  উনার ছোট ছোট দুই শিশু সন্তানকে  উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে মানুষ হিসাবে গড়ে তুলবেন৷ কিন্তু  উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য  সেই পরিমাণে টাকা পয়সাও নেই উনার কাছে৷ তাই কি করে  উনার ছোট ছোট দুই শিশু সন্তানকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করবেন  তা নিয়েও তিনি বা তার চিন্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন ৷ উনার নিজেরও ইচ্ছা ছিল  আগের মতো পুনরায়  দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার জন্য৷কিন্তু টাকার অভাবে  ভালো চিকিৎসার অভাবে  দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাচ্ছেন না৷  তাই সরকার যদি  অন্ধ মনতাই  দেববর্মার দিকে একটু চোখ তুলে তাকান তাহলে হয়তো উনার পরিবারটি এই দুঃখ-দুর্দশার জীবন থেকে কাটিয়ে উঠতে পারবেন৷

Releated Posts

পঞ্চায়েত ধরোহর উদ্যোগে জাতীয় পর্যায়ের প্রকাশনায় ত্রিপুরার গ্রামীণ ঐতিহ্যের উজ্জ্বল উপস্থাপনা

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৮ এপ্রিল: ভারত সরকারের পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রক, ত্রিপুরা সরকারের গ্রামীণ উন্নয়ন (পঞ্চায়েত) বিভাগের সহযোগিতায়, ‘গ্রামীণ…

ByByReshmi Debnath Apr 28, 2026

কালবৈশাখীর তাণ্ডবে বিপর্যস্ত ধর্মনগর, ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ১৪০টি বাড়িঘর

 ধর্মনগর, ২৮ এপ্রিল: গত কয়েকদিন ধরে চলা কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে উত্তর ত্রিপুরার ধর্মনগর মহকুমা। প্রবল…

ByByReshmi Debnath Apr 28, 2026

উত্তর জেলায় বেআইনি কার্যকলাপ বৃদ্ধির অভিযোগ, পুলিশ সুপারের কাছে সাংবাদিকদের ডেপুটেশন

আগরতলা, ২৮ এপ্রিল: উত্তর ত্রিপুরা জেলায় বেআইনি ও অসামাজিক কার্যকলাপ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে—এই অভিযোগ তুলে জেলা পুলিশ…

ByByReshmi Debnath Apr 28, 2026

কালবৈশাখীর তাণ্ডবে তছনছ বিউটি পার্লার, বিপাকে স্বাবলম্বী মহিলা, ঘটনা বামুটিয়ায়

আগরতলা, ২৮ এপ্রিল: মঙ্গলবার সকালে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ল বামুটিয়া ব্লকের পশ্চিম বামুটিয়া গ্রাম…

ByByReshmi Debnath Apr 28, 2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top