আগরতলা, ২১ জুন (হি. স.) : যোগা প্রাচীন ভারতের উদ্ভূত শারীরিক ও মানসিক ব্যায়াম এবং আধ্যাত্মিক অনুশীলন প্রথা, দ্ব্যর্থহীন ভাষায় একথা বলেন যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী।
আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে আজ যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তরের উদ্যোগে জিরানীয়ার বীরেন্দ্রনগর উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে মঙ্গলদ্বীপ প্রজ্জ্বলিত করে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন ত্রিপুরা সরকারের যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তরের মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। এদিন শারীর শিক্ষা বিভাগের উদ্যোগে ঘণ্টা খানেক ধরে আয়োজিত হয় যোগ প্রশিক্ষণ শিবির।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বলেন, আমাদের দেশের আদরনীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রস্তাব এবং অনুপ্রেরণায় রাষ্ট্রপুঞ্জ ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে। তিনি বলেন, যোগা হল প্রাচীন ভারতে উদ্ভূত শারীরিক ও মানসিক ব্যায়াম এবং আধ্যাত্মিক অনুশীলন প্রথা। তার মধ্যে দিয়ে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় থাকে। ভারতে আজও এই প্রথা প্রচলিত আছে।
তাঁর মতে, সুখী আত্মা, একটি তাজা মন এবং একটি সুস্থ শরীর এই তিনটিই যোগ দ্বারা অর্জন করা যায়। ভারতের বাইরে যোগা গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। যোগাভ্যাসের ফলে দৈনন্দিন জীবনে ভারসাম্য বজায় থাকে এবং নিজের কাজের দক্ষতা বাড়ে। পাশাপাশি যে কোনও কাজে একাগ্রতাও বাড়ে। তিনি বলেন, যোগ সারা বিশ্বের কাছে ভারতের একটি অমূল্য উপহার। যোগব্যায়াম মানুষকে নমনীয় থাকতে সাহায্য করে, উদ্বেগের সমস্যা কমায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং শ্বাসযন্ত্রের রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে।
তাঁর দাবি, যোগব্যায়াম করা আমাদের প্রত্যেকের পক্ষেই সম্ভব। তিনি সকলের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানিয়ে বলেন, একটি উন্নত জীবনের জন্য আসুন আমরা যোগাকে আলিঙ্গন করি। সবাই যোগব্যায়াম অনুশীলন করে দীর্ঘ এবং সুস্থ জীবনযাপন করুন। তাঁর কথায়, যোগাভ্যাসের কারণে শরীর, মন ভাল থাকার পাশাপাশি মানসিক ভারসাম্য বজায় থাকে। ‘স্ট্রেস’ থেকে মুক্তির জন্য যোগাভ্যাস খুব জরুরী। মন ও শরীর সুস্থ রাখতে এবং সুন্দর মানসিকতা গড়তে যোগের বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে, যোগা কেবল নিজের জন্য নয়, সকলের জন্য৷ যোগা স্বাস্থ্যের জন্য, সমাজের জন্য ও দেশের জন্য৷ এটা একটা সাধনা ও তার মাহাত্ম্য অনেক৷ সমাজকে পরিবর্তন করতে হলে চাই স্বাস্থ্যের পরিবর্তন৷ যোগাভ্যাসকে ছাত্র-ছাত্রীসহ সকলের মধ্যে ছড়িয়ে দেবার উদ্যোগ নিতে হবে।আজকের অনুষ্ঠানে অন্যান্য বিশিষ্টজনদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন ক্যাবিনেট মন্ত্রী তথা বিশিষ্ট সমাজসেবী কৈলাস বিজয়বর্গীয়, পশ্চিম ত্রিপুরা জিলা পরিষদের জেলা সভাপতি অন্তরা দেব সরকার, যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তরের অধিকর্তা সুবিকাশ দেববর্মা, আমতলীর বিবেকনগরস্থিত রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠের সম্পাদক স্বামী শুভঙ্করানন্দ মহারাজ, জিরানীয়া মহকুমার মহকুমা শাসক জীবন কৃষ্ণ আচার্য্য, জিরানীয়া নগর পঞ্চায়েতের চেয়ারপার্সন রতন কুমার দাস, জিরানীয়া পঞ্চায়েত সমিতির ভাইস-চেয়ারপার্সন প্রীতম দেবনাথ সহ অন্যান্য বিশিষ্টজনেরা।