করোনার প্রকোপে ত্রিপুরায় স্কুল ও কলেজ বন্ধের সিদ্ধান্ত, চলবে পরীক্ষা, বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণী থেকে এবং কলেজে ৫০ শতাংশ উপস্থিতি

আগরতলা, ১০ জানুয়ারি (হি. স.) : করোনার প্রকোপ বৃদ্ধির জেরে স্কুল ও কলেজ বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ত্রিপুরা সরকার। তবে, এখনই পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না স্কুল-কলেজ। আগামীকাল ১১ জানুয়ারি থেকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত নার্সারী এবং দ্বিতীয় শ্রেণী পর্যন্ত বিদ্যালয়ে পঠন-পাঠন সম্পুর্ন বন্ধ থাকবে। কলেজ যথারীতি খোলা থাকলেও ৫০ শতাংশ ছাত্রছাত্রীর উপস্থিতির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কেবল কোভিড বিধি মেনে চলমান পরীক্ষা নির্দিষ্ট সূচী অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে। তাতে দেখা যাচ্ছে, নিয়মিত পঠন-পাঠনে পরিবর্তন আনা হয়েছে। আজ রাত ৯টা থেকে সারা ত্রিপুরায় করোনা নৈশকালীন কারফিউ জারি হচ্ছে। তাই, আজ দুপুরে শিক্ষা দফতর জরুরি বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা সাপেক্ষে ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ১৫ জানুয়ারির পর পুণরায় পরিস্থিতির পর্যালোচনা করা হবে এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।


বিদ্যালয় শিক্ষা দফতরের এবং উচ্চ শিক্ষা দফতরের পৃথক দুইটি বিজ্ঞপ্তিতে জানা গেছে, করোনা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তার প্রশ্নে ১১ জানুয়ারি থেকে কিছু সিদ্ধান্ত বলবৎ হবে। সে মোতাবেক আগামীকাল থেকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রি-প্রাইমারি এবং দ্বিতীয় শ্রেণী পর্যন্ত বিদ্যালয়ে পঠন-পাঠন বন্ধ থাকবে। কোভিড বিধি মেনে চলমান পরীক্ষা নির্দিষ্ট সময়েই অনুষ্ঠিত হবে। বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, নির্দিষ্ট সূচী মেনে শুধু পরীক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসতে পারবে। তবে, যে সমস্ত স্কুলে পরীক্ষা নেই সেখানে ৫০ শতাংশ ছাত্রছাত্রী একদিন অন্তর বিদ্যালয়ে আসতে পারবে। কলেজের ক্ষেত্রেও পরীক্ষা এবং ছাত্রছাত্রীদের কলেজে উপস্থিতি নিয়ে একই আদেশ মানতে হবে। কলেজ কর্তৃপক্ষ একই দিনে দুইটি গ্রুপ করে দুই শিফটে পঠন-পাঠন চালাতে পারবেন। শুধু তাই, কলেজের পড়ুয়াদের পড়াশোনায় বিঘ্ন না ঘটে সেই দিকে নজর রেখে অনলাইন ক্লাস অথবা উভয় পদ্ধতিতে পঠন-পাঠন চালু রাখতে পারবেন।


বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়েছে, বিদ্যালয় শিক্ষা দফতরের সাথে যুক্ত তপশিলি জাতি কল্যাণ, জনজাতি কল্যাণ, সংখ্যালঘু কল্যাণ এবং সমগ্র শিক্ষা দফতর দ্বারা পরিচালিত ছাত্রাবাসগুলি এই সময়ের মধ্যে বন্ধ থাকবে। শুধু পরীক্ষার্থীদের ছাত্রাবাসে থাকার অনুমতি মিলবে। প্রধান শিক্ষকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, বিদ্যালয় পরিচালনায় কোভিড বিধি সঠিকভাবে পালন করতে হবে। পর্যাপ্ত মাক্স, স্যানিটাইজেসন এবং থার্মাল স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থাও রাখতে হবে। তবে, কলেজগুলির সমস্ত ছাত্রাবাস বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, শিক্ষক এবং অ-শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই আদেশ সরকারী, সরকার অনুদানপ্রাপ্ত এবং বেসরকারী ও মাদ্রাসা স্কুলগুলির প্রযোজ্য হবে। তেমনি, সমস্ত রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকার ও বেসরকারী পরিচালিত কলেজের ক্ষেত্রে ওই আদেশ কার্যকর হবে।