নয়াদিল্লি, ৯ অক্টোবর (আইএএনএস): মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে ভারতীয় যুব কংগ্রেসের দায়ের করা আবেদনের জরুরি শুনানি করতে অস্বীকার করল দিল্লি হাইকোর্ট। শুক্রবার আদালত জানিয়েছে, আগামী সোমবার এই মামলার শুনানি হবে।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি নীতিন বাসুদেও সামব্রের সামনে মামলাটি জরুরি ভিত্তিতে শুনানির জন্য উল্লেখ করেন বর্ষীয়ান আইনজীবী সঞ্জয় ঘোষ। ভারতীয় যুব কংগ্রেসের সভাপতি উদয় ভানু চিবের দায়ের করা এই আবেদনের দ্রুত শুনানির আর্জি জানান তিনি।
তবে শুক্রবারই শুনানির আবেদন খারিজ করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বলেন, “এত তাড়াহুড়োর কী আছে? আমরা সোমবার মামলাটির শুনানি করব।”
যন্তর মন্তরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অনুমতি দিতে দিল্লি পুলিশের অস্বীকৃতির সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে যুব কংগ্রেস। আবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৫ সেপ্টেম্বর প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জনকে নিয়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের অনুমতি চেয়ে দিল্লি পুলিশের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু বারবার যোগাযোগ করা সত্ত্বেও ১ অক্টোবর, অর্থাৎ প্রস্তাবিত বিক্ষোভের দিনই অনুমতি প্রত্যাখ্যানের কথা জানানো হয়।
উল্লেখ্য, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলির ইন্ডিয়া জোট। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের দাবিতে দিল্লিতে ধারাবাহিক বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন বিরোধী নেতারা।
বৃহস্পতিবার কংগ্রেস নেতা উদিত রাজ বিরোধীদের এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, গণতন্ত্র রক্ষা করা বিরোধীদের দায়িত্ব।
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে ইন্ডিয়া জোটের নেতারা মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে টানা তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। এর আগে মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের দপ্তরের দিকে মিছিল করে যাওয়ার সময় আকাশবাণী ভবনের কাছে বাধা পেয়ে বিক্ষোভদেখান রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢ়রা-সহ বিরোধী নেতারা। পরে তাঁদের আটক করে দিল্লি পুলিশ। কয়েক ঘণ্টা পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
এদিকে, প্রস্তাবিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে যন্তর মন্তর এবং তার আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের দপ্তরের কাছেও ব্যারিকেড বসানো হয়েছে।
ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারাও যন্তর মন্তর ও সংলগ্ন এলাকায় জারি করা হয়েছে। এর ফলে ওই এলাকায় নির্দিষ্ট কিছু কার্যকলাপ এবং জমায়েতের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
এছাড়া, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখার সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে দিল্লি সরকার শুক্রবার থেকে দু’দিনের জন্য নির্দিষ্ট লাইসেন্সের আওতায় পরিচালিত মদের দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।