আগরতলা, ১ অক্টোবর: ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের ভোট গণনা শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার দাবিতে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হল সিপিএম। গণনাকেন্দ্রে কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন, ওয়েবকাস্টিংয়ের মাধ্যমে নজরদারি এবং বিরোধী দলের গণনা এজেন্টদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করাসহ সাত দফা দাবি জানিয়ে রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন সিপিএমের ত্রিপুরা রাজ্য কমিটির সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী।
রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের উদ্দেশে পাঠানো চিঠিতে জিতেন্দ্র চৌধুরী অভিযোগ করেছেন, চলতি ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের মনোনয়ন পর্ব থেকে ভোটগ্রহণের দিন পর্যন্ত বিরোধী দলগুলিকে শাসকদলের মদতপুষ্ট কিছু দুষ্কৃতীর অগণতান্ত্রিক ও হিংসাত্মক আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছে। এর ফলে মোট আসনের প্রায় অর্ধেক আসনে বিরোধী দলগুলি মনোনয়ন জমা দিতে পারেনি বলেও দাবি করেছেন তিনি।
চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের বিভিন্ন পর্যায়ে বিরোধীদের বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনের শেষ ও চূড়ান্ত পর্যায়, অর্থাৎ ভোট গণনা যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সম্পন্ন হয়, তা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনকে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ভোট গণনা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা এবং গণনাকেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে সাতটি নির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরেছে সিপিএম। দাবিগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, সমস্ত গণনাকেন্দ্রে কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনী (সিপিএমএফ) মোতায়েন করতে হবে। গত টিটিএএডিসি সাধারণ নির্বাচনে অনুসৃত নিয়ম অনুযায়ী, গণনা এজেন্টদের টিটিএএডিসি এলাকার ভোটার হতে হবে। সমস্ত গণনাকক্ষে নিরবচ্ছিন্ন ওয়েবকাস্টিংয়ের মাধ্যমে নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।
শাসকদল বা বিরোধী—কোনও দলেরই অননুমোদিত ব্যক্তিকে গণনাকক্ষে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না।
একবার ভোট গণনা শুরু হলে তা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বিরতি ছাড়াই চালিয়ে যেতে হবে।
বিরোধী দলের গণনা এজেন্টরা প্রয়োজন জানালে, গণনাকেন্দ্রে যাতায়াত এবং গণনা শেষে বাড়ি ফেরার পথে তাঁদের পুলিশি নিরাপত্তা দিতে হবে। সমস্ত প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলকে নিজেদের সমর্থকদের জমায়েতের জন্য পৃথক নির্দিষ্ট স্থান বরাদ্দ করতে হবে। পাশাপাশি, ওই স্থানগুলিতে পুলিশি নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখতে হবে।
চিঠিতে জিতেন্দ্র চৌধুরী আশা প্রকাশ করেছেন, রাজ্য নির্বাচন কমিশন ভোট গণনার সময় কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। গণনাকেন্দ্র এবং ভোট গণনা হতে চলা ব্লক এলাকাগুলিতে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য কমিশনকে বিশেষ নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে সিপিএমের এই সাত দফা দাবি ঘিরে এখন রাজ্য নির্বাচন কমিশন কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।



















