আগরতলা, ১৭ আগস্ট: রাজ্যে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে পিআরটিসি বাধ্যতামূলক না রাখার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাল ডিওয়াইএফআই ও টিওয়াইএফ। সোমবার মেলারমাঠ ছাত্র যুব ভবনে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানানো হয়।
সাংবাদিক সম্মেলনে ডিওয়াইএফআইয়ের রাজ্য সভাপতি পলাশ ভৌমিক বলেন, আগে রাজ্যে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে পিআরটিসি বাধ্যতামূলক ছিল। কিন্তু সম্প্রতি সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সরকারি চাকরিতে আবেদনকারীদের জন্য পিআরটিসি আর বাধ্যতামূলক থাকবে না। পরিবর্তে রাজ্যের যে কোনও বিদ্যালয়ে অন্তত পাঁচ বছর পড়াশোনা করার প্রমাণ দিতে হবে।
তাঁর অভিযোগ, সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। নির্দিষ্ট কাউকে সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। রাজ্যের বেকারদের স্বার্থে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানান ডিওয়াইএফআই নেতৃত্ব।
এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়েও সরব হন পলাশ ভৌমিক। তাঁর অভিযোগ, পর্যাপ্ত চিকিৎসকের অভাবে রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে। একের পর এক ডেপুটেশনের মাধ্যমে কোনওরকমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হচ্ছে। অথচ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরও ৪২ জন যোগ্য চিকিৎসকের অফার লেটার দীর্ঘদিন ধরে আটকে রয়েছে।
তিনি বলেন, রাজ্যে চিকিৎসকের ঘাটতির কারণে সাধারণ মানুষ যখন প্রতিদিন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, তখন ৪২ জন প্রস্তুত চিকিৎসকের হাতে অফার লেটার তুলে না দেওয়ার কারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের এই দীর্ঘসূত্রতা দূর করে অবিলম্বে চিকিৎসকদের হাতে অফার লেটার তুলে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
পাশাপাশি স্বাধীনতা দিবসকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন ঘটনার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন ডিওয়াইএফআই রাজ্য সভাপতি। তাঁর অভিযোগ, ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত একাধিক কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হয়েছে। সোনামুড়ায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন কর্মসূচিতে বিজেপি কর্মীদের বাধা দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি। এছাড়াও স্বাধীনতা দিবসের দিন জিবি বাজারে এক টিএসআর জওয়ান আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাও উল্লেখ করেন। এই সমস্ত ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানায় ডিওয়াইএফআই ও টিওয়াইএফ।



















