নয়াদিল্লি, ১৬ আগস্ট (আইএএনএস): স্বাধীনতা দিবসে কংগ্রেসের সদর দফতরে ‘বন্দে মাতরম’-এর ‘অসম্মান’ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধীকে চিঠি লিখলেন পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি বিধায়ক এবং বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সরাসরি বংশধর সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়। চিঠিতে তিনি গভীর দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করার পাশাপাশি ঘটনার জন্য দেশের নাগরিক, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
উত্তর ২৪ পরগনা জেলার নৈহাটি বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর চিঠিতে অভিযোগ করেন, স্বাধীনতার ৮০তম বর্ষপূর্তি উদযাপনের সময় যখন গোটা দেশ মাতৃভূমির বন্দনায় মগ্ন, তখন অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির সদর দফতরে ঘটে যাওয়া ঘটনা শুধু দুঃখজনক নয়, বরং একটি ঐতিহাসিক ভুলের ‘লজ্জাজনক পুনরাবৃত্তি’।
তাঁর দাবি, কংগ্রেস কর্মীরা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত ‘বন্দে মাতরম’-এর পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ গাইছিলেন। সেই সময় সোনিয়া গান্ধীর ‘অস্বস্তি, অসন্তোষ এবং বারবার তা থামানোর চেষ্টা’ তাঁকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করেন তিনি।
সুমিত্রো চট্টোপাধ্যায় লেখেন, “একজন সাধারণ ভারতীয় নাগরিক, দেশপ্রেমিক এবং সর্বোপরি ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরিবারের সরাসরি বংশধর হিসেবে আমি আজ গভীর বেদনা, শূন্যতা ও যন্ত্রণা নিয়ে এই চিঠি লিখছি।”
‘বন্দে মাতরম’-এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি শ্রীঅরবিন্দের বক্তব্যও উল্লেখ করেন। তাঁর কথায়, এই মন্ত্র একদিনের মধ্যেই গোটা জাতিকে দেশপ্রেমের ধর্মে দীক্ষিত করেছিল। শ্রীঅরবিন্দের মতে, এটি শুধু একটি মন্ত্র নয়, বরং দেশপ্রেমের ধর্ম।
বঙ্কিমচন্দ্রের এই রচনা কীভাবে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অনুপ্রাণিত করেছিল, তাও চিঠিতে উল্লেখ করেন বিজেপি বিধায়ক। ক্ষুদিরাম বসুর মতো অগণিত নির্ভীক বিপ্লবী ‘বন্দে মাতরম’-এর প্রেরণায় ফাঁসির মঞ্চে উঠেছিলেন বলে দাবি করে তিনি লেখেন, স্বাধীন ভারতের মাটিতে সেই মন্ত্রের পূর্ণাঙ্গ আবৃত্তির প্রতি ‘অসহিষ্ণুতা’ লক্ষ লক্ষ শহিদের আত্মত্যাগের প্রতি গুরুতর অপমানের সামিল।
স্বাধীনতা আন্দোলনে ‘বন্দে মাতরম’-এর ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি। জাতীয়তাবাদী নেতা বিপিনচন্দ্র পালের লেখা উল্লেখ করে সুমিত্রো বলেন, বঙ্গভঙ্গের পর গানটি প্রতিটি বিপ্লবীর মুখে মুখে ফিরত। ‘স্বদেশি’, ‘বয়কট’ এবং ‘বন্দে মাতরম’ স্বাধীনতা আন্দোলনের জীবন্ত সমার্থক হয়ে উঠেছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এছাড়া ১৯০৫ সালের বেনারস কংগ্রেস অধিবেশনে সরলা দেবী চৌধুরানীর পূর্ণাঙ্গ ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশন, ১৯০৯ সালে বাল গঙ্গাধর তিলকের রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার শুনানির সময় সমর্থকদের ‘বন্দে মাতরম’ ধ্বনি এবং ১৯৩৮ সালে ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী ছাত্র আন্দোলনের প্রসঙ্গও চিঠিতে তুলে ধরেন তিনি।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গেও ‘বন্দে মাতরম’-এর ঐতিহাসিক যোগসূত্রের কথা উল্লেখ করেন সুমিত্রো। ১৮৯৬ সালে কলকাতায় ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে রবীন্দ্রনাথের গানটি পরিবেশনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি গানটির ‘জাদুকরী শব্দ’-এর কথা স্মরণ করেন এবং কীভাবে তা মানুষের হৃদয়কে আন্দোলিত করে ও বিভিন্ন বাধা ভেঙে দেয়, তা তুলে ধরেন।



















