নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৩ আগস্ট: নাবালিকা অপহরণের অভিযোগে দুই সরকারি কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছে আমতলী থানার পুলিশ। ধৃতরা হলেন মূল অভিযুক্ত জামাল মিয়ার বাবা মতি মিয়া এবং তাঁর ভাই কামাল মিয়া। পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, মতি মিয়া পূর্ত দফতরের কর্মী এবং কামাল মিয়া একটি ব্যাংকে কর্মরত।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ আগস্ট বিশ্রামগঞ্জ এলাকার এক নাবালিকাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে বিশ্রামগঞ্জ পশ্চিম বড়জলা এলাকার বাসিন্দা জামাল মিয়ার বিরুদ্ধে। ঘটনার পর নাবালিকার পরিবার বিশ্রামগঞ্জ থানায় অভিযোগ জানায়। তবে অভিযোগের পরও দ্রুত তদন্ত ও উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের।
এরপর বুধবার স্থানীয় বাসিন্দারা বিশ্রামগঞ্জ থানা ঘেরাও করে নাবালিকাকে দ্রুত উদ্ধার এবং অভিযুক্ত জামাল মিয়াকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। পরিস্থিতির চাপে এরপর সক্রিয় হয় পুলিশ। বুধবার রাতেই বিশ্রামগঞ্জ থানার পক্ষ থেকে একটি জিরো এফআইআর নথিভুক্ত করে তা আমতলী থানায় পাঠানো হয়।
নাবালিকাকে আমতলী থানা এলাকার অন্তর্গত স্থান থেকে অপহরণ করা হয়েছে বলে পুলিশ জানতে পারে। এরপর আমতলী থানার পুলিশ বুধবার রাতেই জামাল মিয়ার বাবা মতি মিয়া এবং ভাই কামাল মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। আমতলী থানায় ৭৯/২০২৬ নম্বর মামলায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৩৭(২) ও ৬১(১) ধারায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ধৃত দুজনকে পুলিশ রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে পেশ করা হয়। তদন্তের স্বার্থে মামলার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতে চাননি আমতলী থানার ওসি। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে মূল অভিযুক্ত জামাল মিয়ার অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি নিখোঁজ নাবালিকাকে উদ্ধারের ক্ষেত্রেও তদন্তে অগ্রগতি হবে বলে আশা পুলিশের।
এদিকে, বৃহস্পতিবার বিকেলে ধৃতদের আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় থানার সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন মতি মিয়ার স্ত্রী। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায়ও চাঞ্চল্য রয়েছে। নাবালিকার পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, তদন্ত দ্রুত এগিয়ে নিয়ে গিয়ে নাবালিকাকে নিরাপদে উদ্ধার করতে হবে। পাশাপাশি ঘটনার মূল অভিযুক্ত জামাল মিয়াকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।



















