রাঁচি, ১৩ আগস্ট (আইএএনএস): গত ১০ আগস্ট রাঁচিতে বিধানসভা ঘেরাও কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে হিংসা ও অশান্তির অভিযোগে ৬০০ বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে ঝাড়খণ্ড পুলিশ। বৃহস্পতিবার পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে ১০০ জনের নাম এফআইআরে উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও ৫০০ জন অজ্ঞাতপরিচয় বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
বিধানসভা থানায় দায়ের করা এফআইআরে পুলিশি নিরাপত্তার জন্য বসানো ব্যারিকেড ভাঙা, পুলিশকর্মীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি ও দুর্ব্যবহার, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং নিরাপত্তারক্ষীদের লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার মতো অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, বিধানসভা ঘেরাও কর্মসূচিতে বিপুল সংখ্যক পড়ুয়া ও অন্যান্য বিক্ষোভকারী জড়ো হয়েছিলেন। প্রশাসনের দাবি, অংশগ্রহণকারীদের প্রায় ৯০ শতাংশ শান্তিপূর্ণ থাকলেও প্রায় ১০ শতাংশ বিক্ষোভকারী হিংসাত্মক হয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলেন।
পুলিশের আরও অভিযোগ, কয়েকজন বহিরাগত গাড়িতে করে ঘটনাস্থলে এসে অশান্তি আরও বাড়ানোর চেষ্টা করেন। সংঘর্ষ ও পাথর ছোড়ার ঘটনায় ১৪ জনেরও বেশি পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী আহত হন বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায়, জলকামান ব্যবহার করে এবং লাঠিচার্জ করে।
অজ্ঞাতপরিচয় অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেছে পুলিশ। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলের ভিডিও, সিসিটিভি ফুটেজ এবং ড্রোন ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন। প্রয়োজনে অভিযুক্তদের শনাক্ত করতে মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-ভিত্তিক প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হতে পারে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (JPSC) এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশন (JSSC) পরিচালিত বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে গত ২০ দিন ধরে আন্দোলন করছেন পড়ুয়ারা। তাঁদের অন্যতম প্রধান দাবি, কথিত পরীক্ষার অনিয়মের তদন্তে সিবিআই তদন্ত করা হোক। চলমান এই আন্দোলনের অংশ হিসেবেই গত ১০ আগস্ট বিধানসভা ঘেরাও কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল।
এদিকে, ছাত্র আন্দোলনের পরবর্তী পর্যায়ের কথা মাথায় রেখে রাঁচি জেলা প্রশাসন নিরাপত্তা আরও জোরদার করেছে। আন্দোলনরত পড়ুয়ারা আগামী ২০ আগস্ট মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাওয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।
মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তায় অতিরিক্ত ১০০-রও বেশি সশস্ত্র নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ঝাড়খণ্ড জাগুয়ার এবং ঝাড়খণ্ড আর্মড পুলিশের সদস্যরাও রয়েছেন।
— আইএএনএস



















