বেঙ্গালুরু, ১৩ আগস্ট (আইএএনএস): কর্ণাটকের মহর্ষি বাল্মীকি তফসিলি উপজাতি উন্নয়ন কর্পোরেশনের কথিত আর্থিক কেলেঙ্কারি নিয়ে রাজ্যের মন্ত্রী বি. নাগেন্দ্রের পদত্যাগ দাবি করল কর্ণাটক বিজেপি। বৃহস্পতিবার বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা বিধায়ক বি.ওয়াই. বিজয়েন্দ্র বলেন, বাল্মীকি সম্প্রদায়ের প্রতি তাঁর সামান্যতম সম্মান থাকলেও নাগেন্দ্রের মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করা উচিত।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিজয়েন্দ্র বলেন, নাগেন্দ্রকে কথিত ১৮৫ কোটি টাকার কেলেঙ্কারির ঘটনায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, সম্প্রদায়ের পরিচয় তুলে ধরে নাগেন্দ্রের বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা উচিত নয়।
বিজয়েন্দ্র বলেন, “নাগেন্দ্রের বিরুদ্ধে আমার কোনও ব্যক্তিগত বিদ্বেষ নেই। সিদ্ধারামাইয়ার মুখ্যমন্ত্রিত্বের সময় এমন পরিস্থিতি কেন তৈরি হয়েছিল, যার জেরে তাঁকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল, তা তাঁর নিজেরই ব্যাখ্যা করা উচিত।”
বিজেপি নেতার দাবি, কর্পোরেশনের সুপারিনটেনডেন্ট চন্দ্রশেখরের আত্মহত্যার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। তদন্তে জানা যায়, কর্পোরেশনের অর্থ তেলেঙ্গানায় স্থানান্তরিত করা হয়েছিল এবং তা কথিতভাবে অপব্যবহার করা হয়।
বিজয়েন্দ্র আরও দাবি করেন, নাগেন্দ্রের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল হয়েছে এবং অভিযোগ থেকে এখনও তিনি অব্যাহতি পাননি। তিনি বলেন, “যদি তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হন, তাহলে তাঁর মন্ত্রী হওয়ায় আমাদের কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু যখন আপনার বিরুদ্ধে এত গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, তখন জাতিগত পরিচয়ের নাম করে তা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না।”
চন্দ্রশেখরের পরিবারের আর্থিক সুবিধা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিজয়েন্দ্র। তাঁর অভিযোগ, এখনও পরিবারটি গ্র্যাচুইটি ও পেনশনের সুবিধা পায়নি। তাঁর দাবি, চন্দ্রশেখর সুপারিনটেনডেন্ট পদে কাজ করলেও সরকার তাঁর ছেলেকে পিয়নের চাকরি দিয়েছে, যা পরিবারের প্রতি অপমানজনক।
বিজয়েন্দ্র জানান, বিধানসভার ভিতরে ও বাইরে নাগেন্দ্রের পদত্যাগের দাবিতে বিজেপি আন্দোলন চালিয়ে যাবে।
অন্যদিকে, তিনি অভিযোগ করেন, কংগ্রেস সরকার বিধান পরিষদের চেয়ারম্যান বাসবরাজ হোরাট্টিকে অপমান করে পদত্যাগে বাধ্য করেছে।
নতুন করে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের পরও একজন মহিলাকে মন্ত্রী না করা নিয়েও কংগ্রেস সরকারের সমালোচনা করেন বিজয়েন্দ্র। তাঁর অভিযোগ, সংসদে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের আইন কংগ্রেস বিরোধিতা করেছিল। অথচ কর্ণাটক সরকার মন্ত্রিসভায় মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব না দিয়ে নারীদের প্রতি নিজেদের উদাসীনতা প্রকাশ করেছে।
তিনি বলেন, “বিধানসভার অধিবেশন শুরু হচ্ছে। সম্ভবত কর্ণাটকের ইতিহাসে এই প্রথম মন্ত্রিসভায় কোনও মহিলা প্রতিনিধিত্ব নেই।”
বাসবন্ন ও আক্কা মহাদেবীর মতো সমাজসংস্কারকদের ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে বিজয়েন্দ্র বলেন, কংগ্রেস সরকারের মন্ত্রিসভায় মহিলাদের স্থান না পাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। মুখ্যমন্ত্রী ডি.কে. শিবকুমার ও তাঁর সরকার মহিলাদের মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধিত্ব না দিয়ে তাঁদের প্রতি অন্যায় ও অপমান করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
— আইএএনএস



















