আগরতলা, ৯ আগস্ট: বিদ্যুৎ মাশুল বৃদ্ধি এবং স্মার্ট মিটার নিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। বিদ্যুৎমন্ত্রী রতন লাল নাথের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে অবিলম্বে বর্তমান সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।
জিতেন্দ্র চৌধুরীর অভিযোগ, প্রাক্তন বিদ্যুৎমন্ত্রী যীষ্ণু দেববর্মার সময় থেকেই রাজ্যের বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যবস্থাকে দুর্বল করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তাঁর দাবি, সেই সময় বিদ্যুৎ বিভাগের পাঁচটি ডিভিশন বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে সাধারণ মানুষের উপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপিয়ে বেসরকারি সংস্থাগুলিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিরোধী দলনেতার আরও দাবি, এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ প্রতিবাদে নামার পর সরকার দ্বিতীয় দফায় বেসরকারিকরণের পথে আর এগোতে পারেনি। পরবর্তী সময়ে বিপুল অর্থের বিনিময়ে বেসরকারি বিদ্যুৎ সংস্থাগুলিকে রাজ্য থেকে সরিয়ে দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিদ্যুৎমন্ত্রী রতন লাল নাথকে কটাক্ষ করে জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, তিনি শিক্ষামন্ত্রী থাকাকালীন রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বর্তমানে কৃষি ও বিদ্যুৎ ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ।
স্মার্ট মিটার প্রসঙ্গে বিরোধী দলনেতার দাবি, এই ব্যবস্থার উপর রাজ্য সরকারের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নেই। তাঁর অভিযোগ, স্মার্ট মিটার পরিচালনার ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থার প্রভাব রয়েছে এবং এর ফলেই সাধারণ মানুষকে বাড়তি বিদ্যুৎ বিলের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক করে জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, বিদ্যুৎ মাশুল নিয়ে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আগেই সরকারকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, অতীতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে ওঠা রাজনৈতিক চাপের প্রেক্ষাপটে যেভাবে পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে, সেই প্রসঙ্গ টেনে বিদ্যুৎমন্ত্রী রতন লাল নাথকেও সতর্ক হওয়ার বার্তা দেন তিনি। তাঁর দাবি, মানুষের ক্ষোভকে উপেক্ষা করলে আগামী দিনে রাজনৈতিকভাবে তার জবাব দিতে হবে সরকারকে।
বিরোধী দলনেতা অবিলম্বে বিদ্যুৎ মাশুল বৃদ্ধি এবং স্মার্ট মিটার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে সাধারণ মানুষের উপর আর্থিক চাপ কমানোর জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান।
———-



















