আগরতলা, ১৭ জুলাই : মানুষের জীবনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনাই হচ্ছে আমাদের উন্নয়নের মানদণ্ড। সকল স্তরের মানুষের আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে উদ্যোগ নিতে হবে। সারা দেশের মধ্যে রাজ্যের প্রায় ৮০ শতাংশ পঞ্চায়েত এ ক্যাটাগরিতে চলে এসেছে। আজ এডি নগরস্থিত গ্রাম স্বরাজ ভবনে রাজ্য ভিত্তিক পঞ্চায়েত পুরস্কার বিতরণ ২০২৬ – ২৭ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, পঞ্চায়েত স্তরে কাজের নিরিখে আমরা সর্বভারতীয় পর্যায়ে পুরস্কৃত হয়েছি। পঞ্চায়েত দপ্তর সঠিক দিশায় কাজ করছে। পঞ্চায়েতের উপর সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে। দেশ ও রাজ্যকে বিকশিত করতে হলে পঞ্চায়েতকে শক্তিশালী করতে হবে। ৭৫ শতাংশ হচ্ছে গ্রামীণ এলাকা। আমাদের লোকসংখ্যারও ৭৫ শতাংশ গ্রাম ও পঞ্চায়েত এলাকায় বসবাস করেন। কাজেই তাদের উন্নয়ন অত্যন্ত প্রয়োজন। আমাদের যশস্বী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও পঞ্চায়েতগুলির স্বাবলম্বী হওয়ার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। প্রযুক্তিকেও সেখানে যুক্ত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলছেন গ্রামের উন্নয়ন না হলে বিকশিত ভারত ২০৪৭ সম্ভব নয়।
আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের মূল উৎস হচ্ছে গ্রাম। আগে যারা দেশ শাসন করেছেন তারা গ্রামকে উন্নয়ন না করে শহর ভিত্তিক উন্নয়ন করেছেন। আর জনসাধারণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গ্রামগুলির উন্নয়ন সম্ভব। আজ বিভিন্ন প্যারামিটারে ৫১টি পুরস্কার প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাতীয় স্তরে অনেক পুরস্কার পেয়েছে ত্রিপুরা। এরমধ্যে সিপাহীজলা জেলা সেরা জেলা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। কাঞ্চনবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত দেশের সেরা হেল্থি পঞ্চায়েত হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। বৈকুণ্ঠ পুর ভিলেজ কমিটি ওমেন্স ফ্রেন্ডলি পঞ্চায়েত হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেছে। এছাড়াও মোহনপুর ব্লকের বিজয়নগর গ্রাম পঞ্চায়েত জাতীয় ই গভর্নেন্স অ্যাওয়ার্ড পদক অর্জন করেছে। পরপর দুবছর এই সম্মান লাভ করে এই গ্রাম পঞ্চায়েত। এভাবে আমরা উদাহরণ তৈরি করতে সক্ষম হচ্ছি। বিজয়নগর গ্রাম পঞ্চায়েত বুটিক পঞ্চায়েত ব্যবস্থাকে সামনে নিয়ে এসেছে। এধরনের উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা ভারতবর্ষের আর কোন পঞ্চায়েতে পরিলক্ষিত হয়নি।
মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা তাঁর বক্তব্যে আরো বলেন, আমাদের ত্রিপুরা জাতীয় স্তরে এখন নানাভাবে প্রতিযোগিতায় চলে এসেছে। এরজন্য প্রধানমন্ত্রীও আমাদের প্রশংসা করছেন। আর পুরস্কার অর্জনের মাধ্যমে আমাদের দায়িত্ব আরো অনেক বেড়ে গিয়েছে। এজন্য আরো বেশি পরিশ্রম করতে হবে এবং কাজ করতে হবে। এখন ত্রিপুরার নাম সর্বভারতীয় স্তরে অনেকে জানতে পারছেন। রাজ্যের মানুষের জীবন মান উন্নত করতে আরো কাজ করতে হবে। সকল স্তরের মানুষের আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে উদ্যোগ নিতে হবে। সমাজের শেষ প্রান্তের মানুষের মুখে হাসি ফুটলেই আমাদের আসল সাফল্যের চাবিকাঠি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার এবং সাধারণ মানুষকে নিয়েই কাজ করতে হবে। আর এটাই গণতন্ত্রের মূল বিষয়। মানুষের জীবনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনাই হচ্ছে আমাদের উন্নয়নের মানদণ্ড। বিভিন্ন প্যারামিটারে সারা ভারতবর্ষের মধ্যে ফ্রন্ট রানার হিসেবে পঞ্চায়েতগুলি এ ক্যাটাগরিতে চলে এসেছে। প্রায় ৮০ শতাংশ পঞ্চায়েত এ ক্যাটাগরিতে চলে এসেছে। দেশের সর্বোচ্চ স্কোর প্রাপ্ত গ্রাম পঞ্চায়েত, সর্বোচ্চ স্কোর প্রাপ্ত ব্লক এবং সর্বোচ্চ স্কোর প্রাপ্ত জেলার সবগুলি ত্রিপুরার। এক্ষেত্রে প্রশাসনের আধিকারিক, সাধারণ মানুষ, জনপ্রতিনিধি ও কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার অবদান রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী কিশোর বর্মণ, গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের সচিব অভিষেক সিং, পঞ্চায়েত দপ্তরের অধিকর্তা প্রসূন দে সহ জেলা সভাধিপতি, সহ সভাধিপতি, চেয়ারম্যান, প্রধান এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ আধিকারিকগণ।
























